Wednesday, 17 March 2021

রডোডেনড্রোন ফুলের স্বর্গ ভার্সে, সিকিম ভ্রমণ গাইড - Versery, Sikkim Travel Guide on Bhromon

লেখাটি কেমন লাগল দয়া করে কমেন্টে জানাবেন।  আমার ভ্রমণের Youtube চ্যানেল Bhromon India 

সিকিমের এক প্রকার অফ বিট ভ্রমণ এর গন্তব্য বলা যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম সিকিমের ভার্সকে। জায়গাটি রোডডেনড্রোন ফুলের স্বর্গ রাজ্যও বলা চলে। ভার্সে ভ্রমণে আপনি পাবেন, নিরিবিলি এক পাহাড়ি গ্রাম ভ্রমণ, বিভিন্ন ধরণের ফুল, অজানা সব পাখি ও একটা সোজা ট্রেক। 
কোথায় থাকবেন?
ভার্সে পশ্চিম সিকিমের একটা ছোট্ট পাহাড়ি জায়গা। এই জায়গাটা জঙ্গলের মধ্যে লোকালয় থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন। তবে এখানে থাকবার মত দুটি রিসোর্ট আছে। চাইলে সেখানে থাকতে পারেন। অথবা হিলে তেওঁ থাকা যেতে পারে। তবে সাধারণত সকলে ওকরে গ্রামে থেকে ভার্সে ঘুরে যায়। অথবা প্রথম রাত্রি ওকরে থেকে পরের দিন ভার্সের রিসোর্ট আসতে পারেন। ওকরে গ্রামে অনেক হোম স্টে আছে যেখানে আপনি থাকতে পারে। দৈনিক থাকা খাওয়া বাবদ মাথাপিছু খরচ পড়বে 900 থেকে 1200 টাকা। আমরা যে হোম স্টে তে ছিলাম তার ফোন নম্বর রইল।
রিনচেন:
+91 6295 997 432
+91 80018 01707
রিনচেন হোম স্টের বাড়ি মালিকের মেয়ে, খুব সুন্দর তার ব্যাবহার ও আতিথেয়তা। বিশদে জানতে আমার youtube ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

 কি ভাবে যাবেন?
 ভার্সে যেতে গাড়ি আসবে হিলে পর্যন্ত। তবে হিলে ও ভার্সে দুটি জায়গাই জঙ্গলের মধ্যে ফলে আপনারা থাকতে পারেন ওকরে গ্রামে। 
 
আপনাকে প্রথমে আসতে হবে শিলিগুড়িতে। কলকাতা থেকে এলে উত্তর বঙ্গের যে কোনো ট্রেনে চলে আসুন শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে আসতে হবে শিলিগুড়ি গাড়ি স্ট্যান্ডে।
শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে জর্থ্যাং/জোরথ্যাং সময় লাগবে প্রায় 3 ঘন্টা। ভাড়া 250 টাকা।জর্থ্যাং থেকে ওকরে যেতে সময় লাগে প্রায় 3 ঘন্টা, শেয়ার গাড়ির ভাড়া 200 টাকা। সকালে শিলিগুড়ি থেকে যাত্রা শুরু করলে জোর্থাং এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন। অথবা জোর্থাং থেকে ওকরে যাবার পথে সোমবারিয়া বলে একটা বাজার পড়বে, গাড়ি ওখানে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়ায়, সেখানেও খেয়ে নিতে পারেন।

 জোর্থাং থেকে ওকরে বাস যোগাযোগ আছে। তবে দিনে একটা বাস সকালে ওকরে থেকে ছেড়ে জোর্থাং যায় এবং দুপুরে ফিরে আসে। সকাল 7:30-8:00 এর মধ্যে একটা বাস আসে ওকরে থেকে জোর্থাং। দুপুর 1 টা নাগাদ আবার ফিরে যায়। বাসের ভাড়া 70 টাকা।

ওকরে থেকে হিলে যেতে কোনো পাবলিক গাড়ি বা বাস নেই। আপনার প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে আসতে হবে।
ওকরে থেকে হিলে প্রাইভেট গাড়ি লাগবে ভাড়া 1200 থেকে 1500 টাকা। সারা দিন গাড়ি অপেক্ষা করবে আপনার ঘুরে আসবার জন্য।

ভার্সে ট্রেক
হিলেতে গাড়ি রেখে ট্রেক করে পৌঁছাতে হয় ভার্সতে। এই ট্রেক এর জন্য বা জঙ্গলে প্রবেশের জন্য টিকিট প্রয়োজন। ভার্সে টিকিট 55 টাকা।এর পর আপনার প্রায় সাড়ে4 কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছাতে হবে। ট্রেক এক প্রকার সোজা। হাঁটুর সমস্যা না থাকলে বা খুব বয়স না হলে এটা করা যায়। প্রতি কিলোমিটার এ বিশ্রাম নেবার জায়গা রয়েছে। তবে এই ট্রেকে খাবার বা জল আপনায় হিলে থেকেই নিয়ে আসতে হবে। গাইড নিতে পারেন, সে আপনাদের সাহায্য করবে। আমরা হোম স্টে থেকেই গাইড নিয়েছিলাম। আর দুপুরের খাবার হোম স্টে থেকে পাঠিয়ে দিয়েছিল। গাইড বাবদ 500-600 টাকা আপনার ধরে রাখতে হবে।

কখন আসবেন?
ভার্সে ফুলের স্বর্গ রাজ্য, আর এই ফুল ফোটে মে মাসের প্রথম থেকে 3য় সপ্তাহের মধ্যে। সাধারণ এক বছর বেশি আরেক বছর একটু কম ফুটে থাকে। 2020 তে খুব বেশি ফুল ছিল, আর আমরা 2021 এ যাবার ফলে খুব বেশি ফুল পাইনি। আশা করা যায় 2022 যে খুব বেশি ফুল ফুটবে। এখানে রয়েছে 6 ধরণের রোডডেনড্রোন বা গুরুশ। এই জন্য এই জায়গার আরেক নাম গুরুশ কুঞ্জ।
হোম স্টে


ট্রেক রাস্তা

Thursday, 7 January 2021

মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ গাইড - Murshidabad Travel Guide on Bhromon

লেখাটি কেমন লাগল দয়া করে কমেন্টে জানাবেন।  আমার ভ্রমণের Youtube চ্যানেল Bhromon India  

"খোকা ঘুমালো | পাড়া জুড়ালো | বর্গী এলো দেশে"

1700 খ্রিস্টাব্দে (প্রায়) বাংলায় বর্গী আক্রমণে অশান্ত হয়েছিল। বর্গীদের আটকিয়ে বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ। সুষ্ঠ শাসনের স্বার্থে তিনি বাংলার তৎকালীন রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে বাংলার প্রায় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন, ভাগীরথী নদীর তীরে। এর পর তিনি তার রাজধানীর নাম নিজের নামের সাথে মিলিয়ে করে দেন মুর্শিদাবাদ (1703 দ্বিমত 1704)। আর এই মুর্শিদাবাদ এই ইংরেজদের সাথে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলা তথা গোটা ভারতবর্ষ ধীরে ধীরে ইংরেজদের অধীনে চলে যায়। এই শহরের প্রতিটি কোনায় আজও ছড়িয়ে আছে জানা অজানা নানা ইতিহাস। এই ইতিহাস জানতে একবার ঘুরে আসা নবাবদের এই শহরে।

  • সংক্ষেপে বিশেষ তথ্য 
    • কি ধরনণের ঘুরবার জায়গা: ঐতিহাসিক
    • বছরের কখন ঘুরতে যাওয়া যায়:  যে কোনো সময়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ গরম কম হবার ফলে ঘোরা আরামদায়ক হয়।
    • কত সময় প্রয়োজন ঘুরবার জন্য: অন্তত দুই দিন
    • কাছের বড় শহর: বহরমপুর
    • কিভাবে যাওয়া যায়: ট্রেন, বাস , প্রাইভেট কার

  • সংক্ষিপ্ত ইতিহাস 
  • কিভাবে যাবেন, include travel time and cost 
    • ট্রেন : কলকাতা (শিয়ালদহ) থেকে হাজার দুয়ারী, লালগোলা সহ অনেক ট্রেন যাচ্ছে বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদ। সিট রিজার্ভ করে বা টিকিট কেটে উঠে পড়তে পারেন। সময় লাগবে প্রায় 3.5 থেকে 4.5 ঘন্টা।
    • বাস : ধর্মতলা অথবা এয়ারপোর্ট থেকে বাসে আসতে পারেন বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদ এ। সময় লাগবে প্রায় 6 ঘন্টা।
    • গাড়িতে : নিজের গাড়িতেও আসতে পারেন মুর্শিদাবাদ এ। প্রায় 220 কিলোমিটার রাস্তা, সময় লাগবে প্রায় 6 ঘন্টা। রাস্তায় মায়াপুর, চুপির চর ঘুরে নিতে পারেন। কলকাতা থেকে বারাসত, হয়ে উত্তর বঙ্গ রোড ধরতে পারেন বা গঙ্গার পশ্চিম দিকের রাস্তাও নিতে পারেন। গুগলের সাহায্যে পৌঁছে যাবেন।
    • প্লেন : কলকাতা থেকে প্লেন যোগাযোগ নেই।
কি দেখবেন

হাজারদুয়ারী
মুর্শিদাবাদ এর দ্রষ্টব্য স্থানগুলোর মধ্যে সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য হল হাজার দুয়ারী। এই রাজপ্রাসাদ টির স্থাপনা করেছিলেন নবাব হুমায়ুনজা। এটি তৈরি করতে প্রায়  8 বছর (1829-1837) সময় লাগে ও মোট খরচ 17 লক্ষ টাকা। এখানে 1000 টা দরজার মধ্যে 900 টি আসল ও 100 টি নকল। বর্তমানে এটি একটি সুন্দর মিউজিয়াম যেখানে তৎকালীন বহু জিনিস যেমন নবাব এর ব্যবহার এর জিনিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছবি, আসবাবপত্র ও যুদ্ধের অস্ত্র রাখা আছে।
এটি খোলা থাকে সকাল 9 টা থেকে বিকাল 5 টা পর্যন্ত। করোনার জন্য টিকিট অনলাইনে কাটতে হচ্ছে। টিকিট মূল্য 20 টাকা। ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ এবং ক্যামেরা সহ প্রবেশের অধিকার নেই। মোবাইল সুইচ বন্ধ করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায়।

ইমামবাড়া
হাজার দুয়ারীর সামনেই আছে ইমামবাড়া। অবশ্য এখানে প্রবেশের অধিকার নেই, বাইরে থেকেই দেখে নিতে হয়। আর এই দূরত্বের মধ্যেই আছে ঘড়ি বাড়ি ও কামান।
হাজার দুয়ারীর সামনে থেকে ইমামবাড়া।  

মতিঝিল
মতিঝিল মুর্শিদাবাদের অন্যতম আকর্ষণ।  এখানে সাউন্ড ও ভিডিও এর মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস দেখানো হয় যা অবশ্যই দেখা উচিত।  এই শো দিনে ৩ বার হয় তবে যদি বেশি দর্শক না থাকে তবে শেষ বার দেখানো হয় না।  বিকাল ৪:৩০ মিনিট নাগাদ প্রথম শো হয়।  বিকাল এ মতিঝিল ঘুরবার জন্য অনবদ্য।  এখানে প্রবেশের জন্য টিকিট লাগে এবং ভিডিও শো এর জন্য আলাদা টিকিট লাগে। দুটি টিকিট মিলে খরচ মোট ৫০ টাকা মতো।  

জগৎ শেঠের বাড়ি
জগৎ শেঠ ছিল ইংরেজ আমলের শুরুর আগে বাংলা তথা ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী ব্যাবসায়ী।  এক সময় বাংলার নবাব  এনার থেকে ধার নিতেন বিভিন্ন প্রয়োজনে।  জগৎ শেঠ ছিল ওনার উপাধি।  ইনি মীরজাফর এর সাথে ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে সিরাজ দৌল্লাকে হারিয়ে বাংলার দখল বিদেশিদের হাতে যেতে সাহায্য করেছিলেন।  এনার এই ষড়যন্ত্র হয়েছিল জগৎ শেঠের এই বাড়িতে।  এই জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। টিকিট ৪০-৫০ টাকা।  


কাঠ গোলাপের বাগান বাড়ি বা কাঠগোলা বাগানবাড়ি
এই বাড়িটির নাম নিয়ে দ্বিমত আছে।  অনেকে বলে এটা কাঠ গোপালের বাগানবাড়ি আবার অনেকে কাঠগোলা বাগানবাড়ি বলে।  হয়ত কাঠ গোলাপ নামই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে কাঠগোলা হয়েছে।  যাই হোক ইটা অন্যতম সুন্দর জায়গা অবশ্যই যেতে পারেন।  ঘুরে দেখতে কমবেশি ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগবে এবং টিকিট ৩০ টাকা (২০২০) .  


এই বাগানবাড়ির মালিক জৈন ব্যাবসায়ী গোষ্ঠী এবং এখানে আছে একটা জৈন্য মন্দির।

নসিপুর রাজবাড়ীর চান্দার রথ 

কাটরা মজজিদ 



জাহানকোষ কামান 
এটি মুর্শিদাবাদের সব চেয়ে বড় কামান। খুব বেশি শব্দের কারণে এই মাত্র একবারই ব্যবহার হয়েছিল।  


সিরাজের সমাধী 
মুর্শিদাবাদ গিয়ে অনেকেই সিরাজের সমাধি না ঘুরেই চলে আছে।  একেবারেই এমন ভুল করবেন না।  সিরাজের সমাধি না দেখলে মুর্শিদাবাদ এর মূল ইতিহাসই বাদ পড়ে যাবে।  হাজার দুয়ারী বা অন্য সব কিছুই ইংরেজ আমলে তৈরি এবং প্রাক ইংরেজ যুগের। সিরাজের সমাধী খোশবাগে যা গঙ্গার অপর পারে। নৌকা বা ভুটভুটি করে গঙ্গা পার করে একটু হেটে পৌঁছে যেতে পারেন এই জায়গায়।  নৌকা ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। 

খোশবাগ যাবার পথের দৃশ্য 



খোশবাগে সিরাজ দৌল্লার সমাধি চত্বরে বাচ্ছারা খেলা করছে 


স্বাধীন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ দৌল্লার সমাধি 




  • কোথায় থাকবেন 
মুর্শিদাবাদে থাকবার জন্য বহু হোটেল আছে।  দিন প্রতি ভাড়া ৭০০-৮০০ থেকে ২০০০-২৫০০ টাকায় পেয়ে যাবেন।  ১০০০-১২০০ টাকার হোটেল বেশ ভাল।  হাজার দুয়ারীর কাছে ও অনেক হতে পাবেন।  ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকার মত।  
  • কোথায় খাবেন 
গোটা মুর্শিদাবাদে বহু খাবারের হোটেল আছে।  আমরা দুপুরের খাবার হাজার দুয়ারীর পেছনে ঢাকা হোটেল ও  হিন্দু হোটেলে খেয়েছিলাম। সবজি ভাত থালা ৬০ টাকা।  বেশ ভাল খাবার।  

কখন যাবেন ও কিভাবে ঘুরবেন 
মুর্শিদাবাদ বছরের যে কোনো সময় যেতে পারেন।  তবে গরমের কারণে পুজোর সময় থেকে শীত কালে গেলে বেশি ভাল লাগবে। 
 

টাঙ্গায়  চড়ে ঘুরছি আমরা, হাজার দুয়ারী এর কাছেই ভাড়া পাবেন  

হাজার দুয়ারীর পাশের সকল জায়গায় ঘুরবার জন্য টোটো বা ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিতে পারেন। গাড়িই আপনার প্রায় সকল জায়গা ঘুরে দেখাবে।  খরচ পড়বে ৪০০-৫০০ টাকা।  তবে সিজিন বিশেষ পরিবর্তন হতে পারে।  জায়গা গুলি ভাবে ভাবে জানবার জন্য গাইড নিতে পারেন। তারা ভালভাবে বুঝিয়ে দেবে। 

এই ভ্রমণের ভিডিও দেখবার জন্য আমার youtube চ্যানেল এ দেয়া ভিডিও গুলি দেখে নিতে পারেন। 

Monday, 23 November 2020

আমার অভিজ্ঞতায় ডাচদের দেশ নেদারল্যান্ড বা হল্যান্ড

লেখাটি কেমন লাগল দয়া করে কমেন্টে জানাবেন।  আমার ভ্রমণের Youtube চ্যানেল Bhromon India 

একটা দেশ যারা কিনা বাধ্য হচ্ছে কয়েদির অভাবে জেল বন্ধ করে দিতে, ভাবা যায়? সত্যিই তাই। এটা নেদারল্যান্ড। পৌনে দুই কোটির কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ দূরত্বের একটা দেশ। হ্যাঁ এরা শান্তির নিরিখে পৃথিবীর সেরা 5 দেশের একটা।
আরমস্টার্ডাম শহরের খাল ও নদী পথ 


পৃথিবীর একটা বড় সংখ্যক মানুষ যখন ধর্ম নিয়ে মত্ত সেখানে প্রায় 50% ডাচ ধর্ম জিনিসটাই পরিত্যাগ করেছে। যদিও এখানে যথেষ্ট পরিমাণে চার্চ আছে। এখানে রাস্তায় ঘুরবার সময় মাঝে মাঝেই চোখে পড়ে প্রাণোচ্ছল যুবক যুবতীদের। হয়ত পড়াশোনা করে বা হয়ত কোনো কাজ করে। কোনো কাজই ছোট ভাবে দেখে না। রাস্তায় হয়ত দেখবেন তারা কেউ আলিঙ্গনবদ্ধ, বা নিছক হাসিঠাট্টায় মত্ত। দিন হোক বা রাত, মানুষের মধ্যে কোনো ভয় নেই। গভীর রাতেও যুবক যুবতীরা অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তায় কান পাতলেই শোনা যায় এদের সর্বদা খুশির কলরব। দুপুরে দেখেছি স্কুল ফেরত ছেলে মেয়েরা নিশ্চিন্তে হোটেলে ঢুকে ফ্রী তে খাবার  খাচ্ছে। হোটেল গুলিও লাঞ্চ সময় পেরিয়ে গেলে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য খাবার গুছিয়ে রেখে দেয়। কোনো খারাপ খাবার নয়, যেগুলো আমরা কিনে খেয়েছি সেই একই খাবার যত্ন করে রাখে। আর অপেক্ষা করে কখন তারা আসবে। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় কিছুদিন তারা আসছে না। তাই  আমাদের হোটেলের সেফ এর মন খারাপ। জানাল সেও স্কুলের সময় একই কাজ করত, এবং এটাই এখানের রীতি।
অত্যাধুনিক রোটাড্যাম শহর, ২য় বিশ্বযুদ্ধে এই শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।  তার পর আবার নতুন করে তৈরী হয়েছে। 



হল্যান্ডের মানুষরা পৃথিবীর মাথা পিছু সব চেয়ে বেশি সাইকেল ব্যবহার করে।  ওখানে মানুষের চেয়ে সাইকেল এর সংখ্যা বেশি।  সকল রাস্তায় গাড়ি পাশাপাশি সাইকেলের জন্যেও সাইকেল এর আলাদা জায়গা থাকে।  এখানে রীতিমত সাইকেল এর জন্য জ্যাম হয়ে থাকে।  
খালের ধারে সাইকেলের সারি 

আমস্টার্ডাম প্রধান রেল স্টেশনের বাইরে সাইকেল গ্যারেজ 


রাস্তার ধারে iphone হোক বা জুয়েলারী দোকান সবই একটা কাঁচের দেয়ালের ওপাশে। গহনা গুলো রাস্তা থেকেই দেখা যায়। কেউ নেই ভেঙে নিয়ে যাবার। গোটা রাত এভাবেই থাকে।

হেগ শহরে ডাচ পার্লামেন্ট 

ওখানে আছে এদের দেশের পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী ও অন্য সব মন্ত্রীরা এখানে বসে দেশের নিয়ম নির্ধারণ  করে। কিন্তু নেই কোনো পুলিশ বা সিকিউরিটি। যে কেউ যে কোনো সময় অনায়াসে যেতে পারে। আবার অনেকে এর ভেতর দিয়ে সাইকেল নিয়ে শর্টকাট করে ওপাশে চলে যায়। শুনেছি নেদারল্যান্ড এর প্রধানমন্ত্রীও নাকি সাইকেলে তার অফিস আসে।
ডাচ পার্লামেন্টের ভেতরে 


ভাল লাগে এরা অবসরে অর্থাৎ শুক্রবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত হৈ হুল্লোড় করে ঘুরে বেড়ায়। কোনো চিন্তা নেই। স্কুল সরকারি। ডাচ ভাষা মূল হলেও ইংরেজি সহ ইউরোপের অন্য ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। সম্পূর্ন ফ্রী। স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা ফ্রী। সামাজিক বিভিন্ন সুরক্ষা থাকায় এদের ভবিষ্যত নিয়েও তেমন চিন্তা নেই। রিটায়ারমেন্ট এর পর সরকার সকলের পেনশন এর ব্যবস্থা করে। 

নেগেটিভ দিক গুলির মধ্যে  এখানে মদ্য পান, গাজা এগুলো এখানে সরকারি নিয়মেই ছাড়। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সাথে এখানে বেশ্যাবৃত্তি আইনত পেশা। সরকার এই পেশাকে ব্যাবসা হিসাবে দেখে ও ট্যাক্স নেয়। 

স্থানীয় মানুষের অবস্থা বেশ ভাল হলেও কিছু গরিব মানুষ আছেন যাদের নিজেদের কোন ঘর নেই। এদের হোমলেস বলে স্থানীয়রা। তবে সাধারণত এরা বিদেশি। আশ্চর্যের এনারা কি ভাবে এখানে এমন ঠান্ডায় খোলা আকাশের নিয়ে থাকেন। 

এখানের বিশেষ খাবার, এক প্রকার কুকিজ, নাম stroopwaffels । দুটি পাতলা বিস্কুটের মাঝে কেরামেল দেয়া। বিভিন্ন ফেভার এর হয়ে থাকে। বিফ, pork প্রধান মাংস। আর খাবার এর শেষে অবশ্যই চিজ। ছুটির দিনে সকাল বাদে বাকি সব সময়ই হার্ড ড্রিঙ্কস অল্প পরিমাণে থাকে খাবারের সাথে। আর আছে বিভিন্ন ধরনের চকলেট। এখানের দোকানে বেবি ফুড ও বিয়ার পাশাপাশি বিক্রি হয়।

নেদারল্যান্ড টিউলিপ ফুলের জন্য বিখ্যাত। মার্চ মাসের শেষ থেকে চারিদিকে বিভিন্ন ধরণের ফুলে ভরে যায়। ছোট্ট এই দেশটি গোটা ইউরোপে ফুল রপ্তানি করে । যা ইউরোপের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যায় মাত্র 24 ঘন্টার মধ্যে। 
টিউলিপ ফুলে ভরে গিয়েছে চারদিক 

রাস্তায় ফুলের সজ্জা 


এই দেশে বেশ কিছু ভারতীয় ও বাংলাদেশি বাস করে। অন্য শহরের সাথে সাথেও হেগ শহরে আছে বেশ কিছু ভারতীয় ও বাংলাদেশি হোটেল।

এখানে এসে ঘুরে ফিরে যা বুঝলাম এখাবের মানুষ বেশ সুখে ও নির্ঝঞ্ঝাট এ বাস করে। পৃথিবীর সব চেয়ে লম্বা মানুষগুলি খুবই শান্তিতে বসবাস করে নিজেদের ছোট্ট দেশে।


সুমন বিশ্বাস
Youtube: Bhromon India


Saturday, 10 October 2020

হল্যান্ডের ডায়রি, পর্ব 2 - মাঝ রাত্রির দুবাই এয়ারপোর্ট

...আসছে
29 ফেব্রুয়ারি 2020

মাঝ রাতের এয়ারপোর্ট এ সোনায় তৈরি গাছ

হল্যান্ডের ডাইরি, পর্ব 1- শুভযাত্রা

28 শে ফেব্রুয়ারি 2020

এবারের গন্তব্য হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ড। এটি ইউরোপের একটা ছোট্ট দেশ। দেশটা মাত্র 320 কিলোমিটার লম্বা আর সর্বোচ্চ 200 কিলোমিটার চওড়া। মত জনসংখ্যা 1 কোটি 70 লক্ষ। এত টুকু দেশের আবার 25% জায়গা কিনা সমুদ্রের থেকে নিচু! অনেক জায়গা আবার সমুদ্রের মাটি দখল করে করা। অর্থাৎ দেশটা পশ্চিমবঙ্গের প্রায় অর্ধেক আর কলকাতার থেকে একটু বেশি জন সংখ্যা। অথচ দেশটা অতি উন্নত। মানুষের জীবনযাত্রার মান খুবই উঁচু, প্রায় পৃথিবীর সেরা কতকগুলো দেশের মধ্যে একটা। দেশ টার অনেকগুলো বড় কোম্পানি আছে যারা আমাদের এখানেও ব্যাবসা করে। যেমন ফিলিপস, ইউনিলিভার বা আমাদের দেশে হিন্দুস্তান লিভার যারা কোলগেট থেকে বহু জিনিস বানায় । আর সব চাইতে বড় কোম্পানি রয়েল ডাচ সেল যারা গোটা ইউরোপের মধ্যে সব চাইতে বড় কোম্পানি। মাত্র 1 কোটি 70 লক্ষ মানুষের পুচকে দেশটির আয় আমাদের ভারত বর্ষের অর্ধেক কিছু কম। এখানে মানুষেরা ডাচ নামে পরিচিত। এনারা পৃথিবীর মধ্যে সব চাইতে লম্বা।

যাইহোক আমি এক বছরের ভিসা পেয়েছি, যাব অফিসের একটা কাজে। তবে তার সাথে ঘোরা ফ্রী, অবশ্য সপ্তাহের শেষে। তাই হোক, এটাও বা কম কি। রথ দেখাও হবে আবার কলা বেচাও হবে। ইউরোপ এ এটা আমার প্রথম ট্যুর না হলেও এই যাত্রা টা আমার জন্য একটা কারণে স্পেশাল। এবার যাচ্ছি emirates এর business ক্লাস এ, যা অবশ্যই স্পেশাল। 

সন্ধ্যায় 8 টা নাগাদ ব্যাঙ্গালোর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে আমার প্লেন। তার আগে ইমিগ্রেশন ও অন্য কাজের জন্য সাড়ে তিন টে নাগাদ বেরিয়ে পড়েছি। business ক্লাস এ emirates বাড়ি থেকে নিয়ে গন্তব্যের হোটেলে পৌঁছে পৌঁছে দেয়। এবং বাড়ি থেকে আনবার জন্য একটা ইয়া বড় সাদা রঙের BMW হাজির। ড্রাইভার দরজা খুলে, ব্যাগ পত্তর সব ডিকিতে তুলে দিল। নিজেকে বেশ স্পেশাল লাগছিল। স্ত্রী ও বাচ্চাদের বিদায় জানিয়ে চললাম এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশে।

ব্যাঙ্গালোরের জ্যাম চির পরিচিত। জ্যাম এড়াতে একটু আগে বেড়িয়েছি। শুক্র বার।রাস্তা ফাঁকা পাওয়া গেল। সাড়ে 5 টার আগেই এয়ারপোর্ট এ পৌঁছে গেলাম। অফিসের বাকি কলিগরাও প্রায় একই সময় চলে এলো। দাঁড়িয়ে ছিলাম সকলের সাথে একটা লাইনে, চেক ইন ব্যাগ জমা করতে। পারে জানলাম business ক্লাস এর জন্য লাইন আলাদা, যেটা একে বারে ফাঁকা। 

ঝটপট ব্যাগ জমা করে চলে এলাম ইমিগ্রেশন কাউন্টারে। তবে এখানে সবার জন্য একটাই লাইন। পাসপোর্ট চেক ও সিকিউরিটি হতে সময় লাগল প্রায় 20 মিনিট। ইতিমধ্যে প্রায় 6 টা বাজে। হাতে কোন ক্যাশ বা ইউরো নেই। cox and kings এ খোঁজ নিতে জানাল 7% চার্জ। শুনেই এক প্রকার পালালাম, কারণ রেট খুবই হাই। নিজের hdfc ব্যাংক এর কার্ড আগেই ইন্টারন্যাশনাল এক্টিভ করে নিয়েছি, ফলে তার ভরসায় বেরিয়ে পড়লাম। ইতিমধ্যে হালকা খিদে পেতে শুরু করেছে। emirates business ক্লাস এর একটা সুবিধা দেয় business লাউঞ্জ। যা ইচ্ছা খাও ও পান করো। পানের বিষয় আমার নেই, ফলে খাবারটাই হল। এর পর প্লেন এর জন্য অপেক্ষা।
7 টা নাগাদ প্লেন gate এর সামনে চলে এলো। এর পর প্লেনে অন বোর্ড। এবারও প্রথম সারিতেই পেয়ে গেলাম প্লেনে ঢুকবার সুযোগ, অবশ্য ফার্স্ট ক্লাস এর পরে। আমার প্রথম business ক্লাস যাত্রা। আর তারসাথে প্রথমবার জানালার ধারে বসবার সুযোগ। ভিডিও ও ছবি তোলার জন্য এটা জরুরি ছিল।

এমিরেটস বোয়িং 777 এর বিজনেস ক্লাস
নেদারল্যান্ড বা হল্যান্ড যাবার জন্য ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রথমে দুবাই ও তারপরে সেখান থেকে আমস্টারডাম যেতে হবে। এই প্লেন টি আমাকে দুবাই নিয়ে যাবে আর।

বোয়িং 777 বেশ বড় প্লেন তবে মোটেই সেরা নয়। ইন্টারন্যাশনাল যাত্রায় অনেক কোম্পানি এটা ব্যবহার করে। যদিও এই প্লেন এর যাত্রা আমার বিশেষ পছন্দ হয় না, কারণ বেশ ঝাকুনি হয়। আর মোটের ওপর কোন রকম প্লেন যাত্রাই আমার পছন্দ নয়। এক সিটে বসে থাকো, গুটিসুটি মেরে। গুটিসুটি মেরে বলছি কারণ এর আগের সব যাত্রাই ইকোনমি ক্লাসে এবং এটাই সাববিক। কারণ দুই ক্লাসের মধ্যে টিকিটের দামের পার্থক্য খুবই বেশি।

বিজনেস ক্লাস আমার জায়গা নিয়ে ধারণাটা পুরোই বদলে দিল। বাপরে এত জায়গা, আর যেন নিজস্ব কেবিন! সিটকে পুরো শুয়িয়ে দেয়া যায় ঘুমানোর জন্য। জাস্ট একটা সুইস চাপলেই হল। সিটকে দরকার মত যে কোন পজিশনে এনে আরাম করো। তার সাথে আছে এলাহী খাওয়ার ব্যাবস্থা। এবং অবশ্যই ইচ্ছা মত অতি উৎকৃষ্ট মানের পানীয়। তবে আমার পছন্দ আপেল বা কমলা লেবুর রস।

সিটের সামনের স্ক্রিন বিভিন্ন মুভি তে ঠাসা। আর তার সাথে প্লেন এর ক্যামেরা দিয়েও বাইরেটা দেখা যায়। তাছাড়া প্লেন কোথায় আছে, কত গতিতে চলছে, বাইরের তাপমাত্রা কত এসবও দেখায়।

দুবাই পৌঁছাতে ভারতীয় সময় রাত সাড়ে 11 টা থেকে 12 টা হবে। ফলে খাবার পর হালকা ঘুমিয়ে নেয়া ভাল। লাইট অফ করে সিট টাকে শুয়িয়ে দেবার মত সেট করে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। 
উডেন ফিনিশে প্লেনের ভেতরের ডেকোরাসন টা সত্যিই দারুন। একটা সেলফি নিয়ে রাখলাম।

Tuesday, 8 September 2020

গ্রাম বাংলার পাখি - Birds at our village on Bhromon

কানাকুহ

সুবর্ণ কাট ঠোকরা 

গুঁয়ে শালিক
ফিঙে
বসন্ত বৌরি
দোয়েল
বুলবুলি 
বেনে বউ, হলুদ পাখি
কানা কুহ
চঞ্চল টুনটুনি
হাঁড়ি চাচা

ডাহুক
শালিক
দুর্গা টুনটুনি (স্ত্রী), মৌটুসী
ঘুঘু
গাং শালিক
মুনিয়া

সবুুুজ ডোরা
সুবর্ণ

কসাই পাখী



বাবুই




পানকৌড়ি



চশমা টুনটুনি



পায়রা


বক

মাছরাঙ্গা


 

ফুলের স্বর্গরাজ্য “ভার্সে” একদিন

  ফুলের স্বর্গরাজ্য  “ভার্সে” একদিন  —----------------------------- ---------  রবিবার , ১১ এপ্রিল ২০২১ করোনার লক-ডাউনে  দমবন্ধ হয়ে বেশ কয়ে...