অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দক্ষিণ ভারতের কুর্গ অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যস্থান। এটি কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত। পাহাড়, জঙ্গল, ট্রেকিং এবং জলক্রীড়া উপভোগ করার জন্য এটি সেরা জায়গা। কুর্গের নিকটতম ছোট শহর হল মাদিকেরি।
- সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ :
- ভ্রমণের ধরণ: অ্যাডভেঞ্চার/প্রকৃতি।
- ভ্রমণের সেরা সময় : বর্ষাকালে এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে পূর্ণ সবুজ দৃশ্য দেখা যাবে।
অক্টোবর থেকে মার্চ: এটি ভ্রমণের সেরা সময়। আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।
বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর): যারা জলপ্রপাত এবং অতি সবুজ প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য উপযুক্ত। তবে এ সময় ট্রেকিং কিছুটা কঠিন হতে পারে।
- সময় কাটানোর সময়: ২-৩ দিন।
- নিকটতম প্রধান শহর: মহীশূর
- ভ্রমণের সর্বোত্তম মাধ্যম: ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর বা ম্যাঙ্গালোর থেকে বাস।
- কিভাবে পৌঁছাবেন
কুর্গের নিজস্ব কোনো এয়ারপোর্ট বা রেল স্টেশন নেই। কূর্গের নিকটতম বড় শহর বেঙ্গালুরু যা মাদিকেরি থেকে ২৬০ কিমি দূরে অথবা মহীশূর যা ১২০ কিমি দূরে সেখানে ট্রেন বা প্লেনে এসে গাড়িতে বা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন কুর্গ। বেঙ্গালুরু থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় ও মহীশূর থেকে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা মতো সময় লাগবে।
- কুর্গে দর্শনীয় স্থানগুলির তালিকা এবং মাদিকেরি থেকে দূরত্ব নিম্নরূপ :
১. রাজা’র সিট (Raja's Seat):
কুর্গের রাজারা একসময় তাঁদের রানীদের নিয়ে এখানে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতেন বলেই এই জায়গার নাম হয়েছে 'রাজা’স সিট'বা রাজার আসন। এটি পাহাড়ের ওপর একটি উঁচুতে অবস্থিত জায়গা যেখান থেকে নিচু উপত্যকা এবং আঁকাবাঁকা রাস্তার সুন্দর প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়।
এর সাথে এখানে সন্ধ্যায় চমৎকার মিউজিক্যাল ফাউন্টেন বা সঙ্গীতময় ঝরনার প্রদর্শনী হয়, যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। বাচ্চাদের জন্য এখানে একটি ছোট টয় ট্রেন আছে ও তার সাথে রয়েছে আরো কিছু রাইড এর ব্যবস্থা। সন্ধ্যার আগে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা মেঘ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য ক্যামেরা-বন্দী করবার জন্য কুর্গের সেরা জায়গা এটি। জায়গাটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে ও প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা।
- অ্যাবে ফলস (Abbey Falls):
এই জলপ্রপাতটি মাদিকেরি শহর থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে কফি এবং মশলা বাগানের ভেতরে এটি অবস্থিত। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা থেকে এই জলপ্রপাতটি পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসছে যা দেখতে অত্যন্ত মনোরম। বর্ষার ঠিক পরে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে গেলে ঝরনার পূর্ণ রূপ দেখা যায়।
প্রতিদিন সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত এই ঝর্ণাটি খোলা থাকে।জনপ্রতি ২৫ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এখানে যেতে হয় আর গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আলাদা চার্জ লাগে। টিকিট কেটে ঝর্ণার প্রধান গেট থেকে ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট নিচের দিকে নামতে হয়। বয়স্ক বা হাঁটুর সমস্যা থাকলে এখানে পৌঁছাতে কষ্ট হবে। ঝরনার নিচে জলে নামা বা সাঁতার কাটা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।
- গোল্ডেন টেম্পল (Namdroling Monastery):
মহীশূর শহর থেকে কুর্গে যাবার পথে, মহীশুর শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ভারতের একমাত্র সোনার মন্দির বা বৌদ্ধ সোনার মনাস্ট্রিটি অবস্থিত। মঠটির নাম নামদ্রোলিং নিংমাপা। মঠটি বিশ্বের তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের নিংমা বংশের বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র। এই মঠটিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি সন্ন্যাসী এবং সন্ন্যাসীনি থাকে যাদের লামা বলা হয়। এখানে ইয়েশে ওডসাল শেরাব রালড্রি লিং নামে একটি জুনিয়র হাই স্কুল, একটি ধর্মীয় কলেজ এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে। মঠটি সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে।
- দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প:
Dubare Elephant Camp হলো কুর্গের একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র যা কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি মূলত কর্ণাটক বন দপ্তরের একটি প্রকল্প যেখানে হাতিদের প্রশিক্ষণ এবং দেখাশোনা করা হয়।
দর্শনার্থীরা এখানে হাতিদের স্নান করানো (Elephant Grooming), তাদের খাবার খাওয়ানো এবং মাহুতদের থেকে তাদের জীবনযাত্রা সরাসরি দেখবার সুযোগ পান। এই ক্যাম্পে পৌঁছাতে হলে পর্যটকদের নৌকা করে কাবেরী নদী পার হতে হয়, যা একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এখানে কাবেরী নদীর অগভীর জলে অনেকে রিভার রাফটিংও উপভোগ করেন।ঘন জঙ্গলের মাঝে এই ক্যাম্পটি অবস্থিত হবার ফলে পাখি দেখার (Bird watching) জন্যও চমৎকার জায়গা।
সকালে (৯:০০ AM - ১১:০০ AM) এবং বিকেলে (৪:৩০ PM - ৫:৩০ PM) পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। সকালে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো কারণ তখন হাতিদের স্নান করানো এবং খাওয়ানো দেখা যায়।
এখানে রাত্রে থাকার জন্য সেখানে হোটেল পাওয়া যায় ও আশেপাশে বেশ কিছু হোমস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
- মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট:
Mandalpatti View Point বা মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট হলো কুর্গের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি মাদিকেরি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে ফরেস্ট এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
মান্দালপট্টি যাওয়ার মূল আকর্ষণ এখানের শেষ কয়েক কিলোমিটারের দুর্গম রাস্তা। সাধারণ গাড়ি সেখানে যেতে পারে না, তাই পর্যটকদের স্থানীয় ফোর-হুইল ড্রাইভ (4x4) জিপ ভাড়া করতে হয়। উঁচু-নিচু এবং পাথুরে রাস্তার মধ্য দিয়ে জিপে করে পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়া এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
মান্দালপট্টির চূড়ার ঠেলে চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সবুজ পাহাড় এবং মেঘের খেলা দেখতে পাবেন। এই জন্য একে অনেক সময় 'কুয়াশার পাহাড়' বলা হয়।
যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা জিপে না গিয়ে নিচের বেস ক্যাম্প থেকে ট্রেকিং করেও ওপরে উঠতে পারেন।
বর্ষাকালের পর অর্থাৎ অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এখানে যাওয়ার সেরা সময়। তবে বর্ষাকালে গেলে চারপাশ অনেক বেশি সবুজ থাকে এবং মেঘের খেলা বেশি দেখা যায়।
এই জায়গাটি সকাল ৬:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
খরচ সম্পর্কে যদি বলি, জিপ ভাড়ার জন্য সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা লাগতে পারে যা সিজিন হিসাবে কম-বেশি হয়। এটি পুরো গাড়ির ভাড়া। একটি গাড়িতে ৫-৬ জন যাওয়া যায় । এছাড়া বন দপ্তরের আওতায় এই জায়গা হবার ফলে বনদপ্তর এখানে প্রবেশ মূল্য হিসাবে অল্প কিছুটাকা নিয়ে থাকে। জায়গাটি সম্পূর্ণ ভাবে প্লাস্টিক বর্জিত হওয়ায় এখানে কোনো প্রকার প্লাস্টিকের প্যাকেট এক বার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে যাওয়া যায়না।
একটা টিপস, ওপরে ওঠায় অনেক সময় বাতাসের বেগ অনেক বেশি থাকে এবং ঠান্ডা লাগে, তাই সাথে হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার রাখা ভালো। এছাড়া ওপরে কোনো দোকান বা খাওয়ার জায়গা নেই, তাই জল এবং শুকনো খাবার সাথে রাখবেন।
- তালা কাবেরী -
Talakaveri হলো দক্ষিণ ভারতের প্রধান নদী কাবেরীর উৎসস্থল। এটি কুর্গের ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত যা ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মাদিকেরি শহর থেকে এই জায়গাটি প্রায় ৪৪ কিমি দূরে অবস্থিত। গাড়ি যেতে ১.৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।
এখানে একটি ছোট কুণ্ড বা জলাধার রয়েছে যাকে 'ব্রহ্ম কুণ্ড' বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, কাবেরী নদী এখান থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে। বছরের নির্দিষ্ট দিনে (তুলা সংক্রান্তি) এখান থেকে অলৌকিকভাবে জলের ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এখানে ভগবান অগস্ত্যেশ্বর এবং গণেশের মন্দির রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা সাধারণত এখানে পবিত্র স্নান সেরে পুজো দেন।
মন্দিরের ঠিক পাশেই ব্রহ্মগিরি পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। ওপরে উঠলে চারপাশের সবুজ পাহাড় এবং উপত্যকার এক চমৎকার ৩৬০-ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়।
যেহেতু এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান, তাই এখানে মার্জিত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। হাফ প্যান্ট বা ছোট পোশাক পরে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।
তালাকাবেরী বেশ উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ঘন কুয়াশা থাকে এবং আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে।
Bhagamandala হলো কাবেরী, কন্নিকে এবং সুজ্যোতি নদীর একটি পবিত্র মিলনস্থল বা ত্রিবেণী সঙ্গম, যা কুর্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। জায়গাটি তালা কাবেরী যাবার রাস্তায় ফলে সময় পেলে এই জায়গাটিও ঘুরে নিতে পারেন।
মাদিকেরি দুর্গ ও রাজপ্রাসাদ
মাদিকেরি দুর্গ কর্ণাটকের কোডাগু জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৬৮১ সালে হাল্লেরি রাজবংশের রাজা মুদ্দুরাজা এই দুর্গটি প্রথম কাদা দিয়ে নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৭৯০ সালে টিপু সুলতান এটি পাথর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করেন এবং এর নাম দেন 'জাফরাবাদ'। ১৮১২ থেকে ১৮১৪ সালের মধ্যে রাজা লিঙ্গরাজেন্দ্র দ্বিতীয় দুর্গের অভ্যন্তরে বর্তমান রাজপ্রাসাদটি নতুন করে গড়ে তোলেন।
স্থাপত্যের দিক থেকে এই প্রাসাদটি অনন্য, কারণ এতে ইউরোপীয় এবং স্থানীয় কোডভা শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। দুর্গের উত্তর-পূর্ব দিকে পাথরের তৈরি দুটি বিশাল হাতির মূর্তি রয়েছে।ব্রিটিশ শাসনামলে দুর্গের ভেতরে একটি গির্জা (সেন্ট মার্কস চার্চ) তৈরি করা হয়েছিল, যা বর্তমানে কর্ণাটক প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অধীনে একটি সরকারি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই ঐতিহাসিক দুর্গটি মাদিকেরি শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মাদিকেরি প্রধান বাস স্ট্যান্ড থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। পর্যটকরা খুব সহজেই পায়ে হেঁটে বা অটো-রিকশায় এখানে পৌঁছাতে পারেন।
কি খাবেন? (Local Cuisine)
কুর্গের খাবার তার নিজস্ব মশলা এবং স্বাদের জন্য বিখ্যাত। ভিডিওতে এগুলো অবশ্যই দেখাবেন:
পান্ডি কারি (Pork Curry): কুর্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় আমিষ পদ।
আক্কি রুটি (Akki Roti): চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি রুটি।
কাদাম্বুট্টু (Kadambuttu): ভাপে তৈরি চালের বল যা মাংসের ঝোলের সাথে খাওয়া হয়।
কুর্গি কফি: যেহেতু এটি কফি চাষের এলাকা, এখানকার ফ্রেশ কফি ট্রাই করতে ভুলবেন না।
কোথায় থাকবেন ও খরচ (Stay & Cost)
থাকার জায়গা:
হোমস্টে (Homestay): কুর্গের আসল অভিজ্ঞতা পেতে কফি বাগানের ভেতরে কোনো হোমস্টে-তে থাকুন। (খরচ: ১,৫০০ - ৩,০০০ টাকা প্রতি রাত)।
রিসোর্ট ও হোটেল: মাদিকেরি শহরে বাজেটের মধ্যে হোটেল পাওয়া যায়। (খরচ: ২,০০০ - ৫,০০০ টাকা)।
আনুমানিক খরচ (Estimated Cost):
বাজেট ট্রিপ (২ রাত ৩ দিন): জনপ্রতি ৮,০০০ - ১০,০০০ টাকা (বেঙ্গালুরু থেকে যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়া সহ)।
লাক্সারি ট্রিপ: ১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি।
৩ দিনের আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা (Detailed Itinerary)
দিন ১: কুশলনগরে প্রবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
সকাল: বেঙ্গালুরু থেকে রওনা হয়ে প্রথমে যান বাইলকুপ্পে (Bylakuppe)। এখানে গোল্ডেন টেম্পল বা নামড্রোলিং মনাস্ট্রি দেখুন। (সময়: ১-১.৫ ঘণ্টা)।
দুপুর: কাছেই অবস্থিত কাবেরী নিসর্গধাম (Nisargadhama) ঘুরে দেখুন।
এটি একটি বাঁশ বাগান ঘেরা দ্বীপ যেখানে হরিণ পার্ক এবং ঝুলন্ত ব্রিজ আছে। বিকেল: দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প (Dubare Elephant Camp)। এখানে হাতিদের গোসল করানো বা খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
(মনে রাখবেন, বিকেলের সাফারি ৫টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়)। রাত: মাদিকেরি (Madikeri) শহরে চেক-ইন এবং বিশ্রাম।
দিন ২: কফি বাগান এবং জলপ্রপাত
সকাল: জিপ ভাড়া করে চলে যান মান্দালপট্টি (Mandalpatti) ভিউ পয়েন্টে।
মেঘের ওপর দিয়ে অফ-রোড জিপ রাইড আপনার ভিডিওর সেরা দৃশ্য হতে পারে। দুপুর: ফেরার পথে অ্যাবে ফলস (Abbey Falls) দেখুন।
এরপর কোনো একটি কফি বাগানে (Coffee Plantation) ট্যুর করুন এবং কফি তৈরির প্রক্রিয়া রেকর্ড করুন। বিকেল: মাদিকেরি ফোর্ট (Madikeri Fort) এবং পাশেই অবস্থিত ওমকারেশ্বর মন্দির (Omkareshwara Temple) দর্শন।
- সন্ধ্যা: রাজাস সিট (Raja's Seat) এ সূর্যাস্ত দেখে দিনটি শেষ করুন।
- দিন ৩: আধ্যাত্মিকতা ও বিদায়
সকাল: তালাকাবেরী (Talakaveri) এবং ভাগমন্ডল (Bhagamandala)।
এটি কাবেরী নদীর উৎসস্থল এবং এখান থেকে ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ভিউ দারুণ আসে। দুপুর: ফিরতি পথে চিকলিহোল ড্যাম (Chiklihole Reservoir) ঘুরে দেখতে পারেন, যা বেশ শান্ত ও নিরিবিলি।
বিকেল: মহীশূর বা বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা।
অফবিট বা লুকানো রত্ন (Offbeat Places for unique shots)
মাল্লাল্লি ফলস (Mallalli Falls): উত্তর কুর্গে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি কুর্গের অন্যতম সুন্দর কিন্তু ভিড় কম হয়।
তাদিয়ানডামোল পিক (Tadiandamol Peak): যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি কুর্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
চেলভারা ফলস (Chelavara Falls): কফি বাগানের গভীরে অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত।
প্রবেশমূল্য ও সময়সূচী (Entry Fees & Timings)
স্থান প্রবেশমূল্য (জনপ্রতি) সময়সূচী গোল্ডেন টেম্পল বিনামূল্যে সকাল ৯:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০ অ্যাবে ফলস ১০ টাকা সকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০ নিসর্গধাম ১০ টাকা (বড়দের) সকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০ মাদিকেরি ফোর্ট বিনামূল্যে (সোমবার বন্ধ) সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:৩০ মান্দালপট্টি জিপ ৪,০০০ - ৫,০০০ টাকা (পুরো জিপ) সকাল ৬:০০ - বিকেল ৫:০০

