Thursday, 30 November 2023

বাংলার বাইরে আরেক বাংলা


নদীডোবাবিলমাছধানক্ষেতে - বাংলা বললে এমনই এক দৃশ্য আমাদের মনে ভেসে ওঠে।  এমন জায়গা যেখানে গ্রামের পাস দিয়ে বয়ে যাবে নদী বা অন্তত একটা খাল। সেই খালের জলে থাকবে মাছ।  আর  জল শুকিয়ে গেলে  দিগন্ত  বৃস্তিত মাঠে ধান ক্ষেতের ওপরে দিয়ে বয়ে যাবে কোমল হাওয়াসেই হাওয়ায় সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ঢেউ উঠবে ধানের খেতে। গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে থাকবে ধানের  গোলা আর বৃষ্টির সময় যাতায়াতের জন্য থাকবে নৌকা।  মানুষের খাবারের পাতে থাকবে অন্তত একটা মাছ আর ভাত।  বাংলার এই রূপ চির পরিচিত।  অবশ্য এই সকল জিনিস যে শুধু বাংলায় নয় , তার বাইরেও আছে সেটা বুঝেছিলাম ভারতবর্ষের একেবারে দক্ষিণে আরব সাগরের পাড়ে থাকা একটা জায়গায়। আজ বলব সেই ঘুরবার গল্পযা আমাকে ভীষণ ভাবে অবাক করেছিল।  তারই সাথে এও বলব যে এমন এক জলা জায়গা কিভাবে ভারত সহ গোটা পৃথিবীর কাছে অন্যতম জন্যপ্রিয় ভ্রমন গন্তব্য উঠল  মানুষের আয়ের একটা প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ালো।  এই গল্প বাংলার বাইরে আরেক বাংলার গল্প।   


ভারতবর্ষের দক্ষিণে অবস্থিত কেরল রাজ্যের আলেপ্পিকেরলের প্রধান দুটি  জন্যপ্রিয় জায়গা এর একটি। কেরল রাজ্য যা আছ্ ভারতের একেবারে দক্ষিণের ভারত মহাসাগরের থেকে শুরু করে আরব সাগর ঘেসে উত্তরে প্রায় সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার জুড়ে থাকা এক ছোট রাজ্য। এই রাজ্য লম্বায় সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার হলেও চাওড়াতে মোটেই বলবার মতো কিছু নয় , সব থেকে মোটা জায়গাটাও  মাত্র ১২৫ কিলোমিটার মতো।  অথচ এই অল্প জায়গার মধ্যেই আছে আশ্চর্য ভূপ্রকৃতিপূর্বে সুউচ্চ পাহাড় , আর পশ্চিমে আরব সাগর।  এরই মাঝে এক চিলতে সমতল জায়গা। এই ছোট জায়গার ভূপ্রকৃতি এতটাই সুন্দর যে এখানে মানুষরা এই রাজ্যকে বলে ঈশ্বরের নিজের দেশ।  মৌসুমী বায়ু যখন ভারতে আসেপ্রথমেই এই পাহাড়ে ধাক্কা খায় আর এখানে হয় প্রচুর বৃষ্টি।  এই জল ধারা ধীরে ধীরে পাহাড় থেকে নেমে চলে আসে সমতলেতৈরি করে অসংখ্য নদী - খাল - বিল।  কিন্তু এই জল প্রাকৃতিক কারণে পুরোটা সমুদ্রে চলে যেতে পারেনাসমতলে আটকে থেকে তৈরি করে জলা জায়গাযাকে বলে ব্যাক ওয়াটার।   সমতলের নিচু জায়গা গুলি প্রতি বছর এই জলে ডুবে যায়।  তৈরি হয় মানুষের জল যন্ত্রনা। অবশ্য জল যন্ত্রণাকে আর বর্তমান বলা যায়নাএমনটা আগে হতো কিন্তু বর্তমানে এই জলই এদের ভাগ্য খুলে দিয়েছে।    আলেপ্পি এমনই একটা যায়গা যেখানে প্রায় ১৫-২০ টা গ্রাম নিয়মিত বৃষ্টির সময়  চলে যায় জলের নিচে। বাকি সকল জায়গার সাথে থাকেনা স্থল পথে কোনো যোগযোগ ব্যবস্থা , নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থা। আমাদের যেমন সাইকেল - মোটর সাইকেল বা গাড়ি থাকে , ওদের থাকে হাতে টানা ছোট নৌকা বা ডিঙি - মোটর দেয়া নৌকা - শিকারা,  বিশাল বড়ো নৌকা বা হাউস বোট।  এই হাউস বোটের মধ্যে থাকে বেশ কয়েকটি ঘর , রান্নার জায়গা , বাথরুম , এসি , জেনারেটার আরো কতকি!  আবার এখানে চলে জল -বাস , আমাদের যেমন রাস্তায় বাস চলে , এখানে চলে বড় মোটর নৌকা , যাকে বলে জল-বাস।  


---------------


আমরা এই জায়গায় পৌঁছেছিলাম গাড়িতে করে।  অবশ্য চাইলে ভারতের যেকোনো জায়গা থেকে ট্রেনে এই আলিপ্পি চলে আসা যায়।  তারপর অটো বা টুকটুক ধরে চলে যায় হাউস বোট ভাড়া নেবার জায়গায়। এখানে যদি অন্তত এক রাত্রি থাকার প্ল্যান থাকে তবেই অবশ্য হাউস বোট নইলে ছোট নৌকা যাকে এখানে শিকারা বলেসেই জন্য কয়েক ঘন্টার জন্য ভাড়া নিয়ে ঘুরে নেয়া যায় এই গ্রাম গুলো। যদি হাউস বোট হয় তবে আপনার এখানেই থাকা  খাবারের ব্যবস্থা করবে। পুরোদিন নদীর অলি - গলি ঘুরিয়ে রাতে কোথায় দাঁড়িয়ে যাবে আবার সকালে ঘুরিয়ে আপনায় ছেড়ে দেবে যেখানে থেকে আপনার যাত্রা শুরু হয়েছিল। অবশ্য তারজন্য বেশ কিছু পয়সা গুনতে হবে। এই যেমন সিজিন হিসাবে দিনে   থেকে ১৫ হাজার ভারতীয় টাকাথাকা  খাবার এর মধ্যেই   ফলে যদি একটু সস্তায় ব্যাপারটা উপগভোগ করবার ইচ্ছা থাকে তবে শিকারা আছেই।  - ঘন্টার জন্য ভাড়া নিয়ে গ্রাম গুলির আলী-গলি ঘুরে নিন।  এতে অবশ্য মাত্র ১২০০-২৫০০ টাকার মধ্যেই হয়ে যাবে। অবশ্যই শুধু ঘোরা। 


আমাদের পকেটে টান কম তাই শিকারার জয় বলে উঠে পড়লাম একটায়। তিন ঘন্টা ঘুরে দেখাবে।  আমাদের মাঝি মাইকেল। স্থানীয় এক গ্রামের লোক।  এই নৌকা চালিয়েই তার দিব্যি সংসার চলে। সিজিনে  দিনে গড়ে দুই - তিন  বার কাস্টমার পেয়ে যায়। মানে দিনের শেষে - হাজার আয়।  অবশ্য এই নৌকা গুলি হাতে টানা নয়।  মোটরে চলে ফলে তেলের খরচ আছে।  আর নৌকা নিজের না হলে তার ভাড়াও গুনতে হয়।  যাইহোক দিনের শেষে তবু কম করেও কয়েক হাজার আয় হয়ে যায়।  এই জন্যই বলেছিলাম এদের এই জল আজ সৌভাগ্যের।  মাইকেল দিব্যি একটা সরু খালের মধ্যে দিয়ে নিয়ে চলল আমাদের নৌকা।  মৃদু বাতাস আর খালের চারিদিকে নারকেল ঘেরা  গ্রামের দৃশ্য সত্যিই মনো মুগ্ধকর।  কিছুটা গিয়ে পড়লাম একটা বড় বিলে।   ব্যাপারটা যেমন গলি থেকে এসে কোনো একটা বড় মাঠের মধ্যে এসে পড়েছি।  সেখানে আবার সরকার  সুন্দর একটা বসবার জায়গায় করে দিয়েছে। সেখানে ডাবচা  অন্য সব খাবারের দোকান। বেশ মজার , চারিদিকে জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ডাব বা চা যা ইচ্ছা খাও।  ওদেরও সকলে  মিলে মিশে বেশ ভাল আয়ের ব্যবস্থা। 


কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে আবার চলল আমাদের নৌকা।  এবার খালের ভেতর দিয়ে যেতে মাইকেল গল্প বলছিলতাদের গ্রামের গল্প। আগে এক সময় এই গ্রামগুলিতে বন্যার জলে ডুবে যেত আর মানুষের থাকবার বা খাবারের ব্যবস্থা থাকতো না। জিজ্ঞাসা করলাম , আগে ডুবে যেত মানে কি এখন ডুবে যায় না ? হেসে দেখাল অদ্ভুত একটা জিনিস। আমরা খালের যে জলের ওপর দিয়ে যাচ্ছি সেটা পাশের গ্রামের মানুষের বাড়ির প্রায় ছাদের সমান উঁচুতে।  খালের রয়েছে উঁচু বাধ। এই বাঁধ বা পাঁচিল গ্রামগুলিকে জল থেকে রক্ষা করছে।  আর গ্রামের খালি জায়গায় হয়েছে সুন্দর ধানের খেতযার ওপর দিয়ে  হাওয়া খেলে যাচ্ছে তৈরী করছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সব ঢেউ।   


এই খাল গিয়ে মিশেল আরেকটা বড়ো খালে। এখানে দেখলাম জল-বাস  হাউস বোট গুলি ভেসে চলেছে।  ব্যাপারটা যেন একটা গলি এসে একটা পাকা রাস্তায় মিলছে আর সেখানে চলছে বড়ো বাস - গাড়িআগের গ্রামটা শেষ করে আবার একটা বড়ো বিল।  তারপর আরেকটা খালে ঢুকে এগিয়ে যেতেই মাইকেই দেখালো তার বাড়িটি। ছোট কিন্তু বেশ সুন্দর সাজানো গোছানো।  উঠানে বেশ কিছু ফলের গাছ।  যদিও মাটি এই  খালের জলের থেকে এক মানুষ নিচুতে।  পাশেই আরেকটা গ্রাম। গ্রামগুলি আলাদা হয়েছে এই সকল খালের মাধ্যমে।  নেই কোনো ব্রিজ নেই সাঁকো।  আছে প্রতিটা বাড়ির সামনে হাতে টানা নৌকা আর মোটর দেয়া অন্তত একটা নৌকা।  এই নৌকাই এদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম।  গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম এখানে সব বাড়িই পাকা , নেই কোনো কাঁচা বাড়ি। অনেক বাড়ি আবার দুই তোলা।  সেসব বাড়ির মাঝে মাঝে আছে ছোট সবজি বা মুদির দোকান।  অবশ্য মাছ এর দোকান দেখলাম না।  দরকারও নেই , মাছ তো খালে আছেই যত ইচ্ছা ধরে নাও।  এসব ভাবতে ভাবতে এসে পড়লাম বিশাল বড়ো আরেকটা নদীতে।  এটা যেন হাই ওয়ে বা রাজপথ।  আবারো আরেকটা গ্রাম।  এতক্ষনে খেয়াল করলাম আগের প্রতিটা গ্রামে চার্চ বা মজ্জিদ থাকেও মন্দির দেখিনি।  এই গ্রামে আছে মন্দির।  আসলে এই কেরলে হিন্দু - মুসলিম-খ্রিস্টান সকল মানুষের বাস।  নেই কোনো মারামারি নেই দাঙ্গা।  এবার নৌকা ভিড়ল একটা হোটেলে।  আবারো নদীর পশে একজনের বাড়িতেই হোটেল।  আছে সদ্য ধরে আনা বিভিন্ন ধরণের মাছ।  ব্যবস্থা বেশ সুন্দর , কাঁচা মাছ ওজনে কেনো আর একটু বসলেই ফ্রেশ মাছ পরিষ্কার করে দারুন ভাবে ভেজে দেবে খাবার জন্য। আমরাও ৯০০ টাকায় এক কিলো স্থানীয় এক ধরণের মাছ কিনলাম। এটা দেখতে কিছুটা তেলাপিয়া  পমফ্রেট এর মতো।  গরম গরম এই মাছ ভাজাএকেবারে অতুলনীয়। খিদে কারো পাইনি তাই আর ভাত খেলাম না।  কিছুক্ষন এখানে কাটিয়ে আবার উঠে বসলাম মাইকেলের শিকারায়।  প্রায় তিন ঘন্টা হয়ে গিয়েছে , এবার আমরা ফিরব। এই ফিরবার পথে চেয়ে রইলাম ওই সকল খালে - বিলে ঘেরা নারকেল গাছের আড়ালে থাকা গ্রামের দিকে। ভাবলাম পাহাড়ের বৃষ্টির যে জল এই সময় এই সকল মানুষকে প্রতি বছর বন্যায় ফেলে সর্বশান্ত করে ছাড়তোসেই সকল জলকেই নিয়ন্ত্রণে এনে কি সুন্দর চাষের কাজ , মাছের ব্যবস্থা আর ভ্রমণের উপযুক্ত এক ব্যবস্থা করেছে যা কিনা গোটা ভারত তথা গোটা পৃথিবীর কাছে অন্যতম এক আশ্চর্যের  জনপ্রিয় গন্তব্যএই জল এখানের মানুষকে আজ সব দিকথেকে সম্মৃদ্ধ করছে।  ১০০শিক্ষিত এই জায়গায়  নেই কোনো দারিদ্রতা , নেই কোনো ধমীয় বিবাদসদাহাস্য এই সকল মানুষ আজ নিজেদের চেষ্টায় এই প্রতিকূল জায়গাকে বানিয়ে তুলেছে অন্যতম সেরা।  আজ এটা সত্যিই   Gods own country  - ঈশ্বরের নিজের দেশ।

Saturday, 23 September 2023

কেরল ভ্রমন গাইড - Kerala Tour Plan and Budget

স্থানীয় মানুষে কেরল কে বলে ভগবানের আপন দেশ বা God's own country, আর সেটা কেন বলে, কেরল ঘুরতে এলেই বুঝতে পারবেন। পাঁচ দিন অথবা ৮-৯ দিনে কি ভাবে কেরল ঘুরে দেখবেন, কোথায় থাকবেন ও খরচ কত হতে পারে, তার সম্পূর্ন তথ্য পাবেন এই ব্লগ থেকে। এটি কেরল ভ্রমন গাইড, ফলে সমস্ত জায়গা গুলির শুধুমাত্র মূল তথ্য টুকু তুলে ধরব। কোনো জায়গা সম্পর্কে বিশদে জানতে চাইলে সেই জায়গার vlog দেখে নিতে পারেন। 

Back water Travel


এই ভ্রমণ গাইডের ভিডিও লিংক: 



কেরল রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থান

কেরল রাজ্য দক্ষিণ ভারতের সব চেয়ে দক্ষিণে আরব সাগরের কুলে অবস্থিত। এর পূর্বে রয়েছে তামিলনাড়ু রাজ্য। আবার কেরলের এর পশ্চিমে রয়েছে আরব সাগর আর পূর্ব দিকে পশ্চিম ঘাট পর্বতমালা। এই পর্বতমালা ও আরব সাগরের মধ্যেই রয়েছে সমতল ভূমি ও অনেক খাল এবং নদী। যদিও কেরলের পূর্ব পশ্চিম বলতে তেমন কিছুই নেই, রাজ্যটি পূর্ব পশ্চিম এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১৫০-১৭০ কিলোমিটারের মত। আর উত্তর দক্ষিণে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এই সরু একটা রাজ্যের মধ্যেই রয়েছে এমন ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্য।


কেরল কি ভাবে পৌঁছাবেন

কেরল ভ্রমন এর জন্য  মধ্য কেরলের কোচিন অথবা দক্ষিণ কেরলের ত্রিবন্দম, যে কোনো শহর থেকেই শুরু করা যায়। এই দুটি শহরেরই কলকাতা বা ভারতবর্ষের যে কোনো বড়  শহরের থেকে প্লেন বা ট্রেন এ পৌঁছে যেতে পারেন।

কলকাতা বিমান বন্দর থেকে অনেকগুলি প্লেন প্রতিদিন কোচিন অথবা ট্রিবন্দম বিমান বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। তবে এখানে প্লেনগুলি ব্যাঙ্গালোরে, হায়দ্রাবাদ অথবা চেন্নাই ঘুরে যায়।

কলকাতা থেকে পৌঁছানো যায় ট্রেন কোচিন ও ত্রিবন্ধম শহরে। সাত্রাগাছি থেকে ২২৬৪২ ট্রেনটি রাত্রি ১২:০৫ এ ছেড়ে পরের দিন দুপুর ৩:০৫ অর্থাৎ প্রায় দেড় দিন বাদে এর্ণাকুলাম পৌঁছায়। ট্রেনটি মঙ্গলবার ও রবিবার ছাড়ে। এছাড়া ১২৬৬০ ট্রেনটি প্রতি বুধবার রাত্রে ছাড়ে এবং সময় প্রায় একই লাগে। কোচিং থেকে আপনার ভ্রমন শুরু করতে এর্ণাকুলাম জংশন স্টেশনে নামতে হবে। 


কখন আসবেন

সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কেরল ঘুরবার জন্য ভাল। তবে শীতকালে কেরলের বেশিরভাগ জায়গা ঘুরবার জন্য সব চেয়ে ভাল। অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বর থেকে জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি। তবে এই সময় পাহাড়ের জায়গাগুলো যেমন মুন্নার , থেক্কাদি এমন জায়গায় বেশ ঠান্ডা থাকবে। আর কেরলের অন্য সব জায়গা যেমন ব্যাক ওয়াটার, সমুদ্রের ধার এইসকল জায়গাটা ঘুরতে এই সময় খুবই ভাল।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী এই সময় আসলে ঠান্ডার ভারী পোশাক সঙ্গে আনবেন।


কেরল এর কোথায় কোথায় ও কি ভাবে ঘুরবেন

প্রথম দিন  - কোচিন শহর ভ্রমণ 

সকাল: আপনার দিন শুরু করুন ফোর্ট কোচি ঘুরে, এটি একটি ঐতিহাসিক পাড়া যা পর্তুগিজ, ডাচ এবং চীনা প্রভাবের মিশ্রিত এলাকা। সরু রাস্তাগুলি হেঁটে ঘুরে দেখুন, স্ট্রিট আর্ট দেখুন এবং এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু ল্যান্ডমার্কে যেতে পারেন, যেমন চাইনিজ ফিশিং নেট, সান্তা ক্রুজ ব্যাসিলিকা এবং ম্যাটানচেরি প্যালেস।

বিকলে চলে যেতে পারেন মেরিন ড্রাইভ হেঁটে ঘুরবার জন্য। আমি নিশ্চিৎ আপনি একটা একটি নৈসর্গিক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকবেন, আরব সাগরে সূর্যাস্ত সত্যিই অসাধারণ । আবার চাইলে আপনি ইন্দো-পর্তুগিজ মিউজিয়ামও দেখতে পারেন, যেখানে শহরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন করে এমন নিদর্শন এবং প্রদর্শনীর সংগ্রহ রয়েছে।

মেরিন ড্রাইভ, কোচি

আরব সাগরে সূর্যাস্ত দেখে চলে জেনে পারেন ডিনারের উদ্দেশ্যে। কচি ফোর্টের সামনে অনেক রেস্তোরা পাবেন, সেখানেই রাত্রের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরতে পারেন।  আবার চাইলে কোচিতে কথাকলি নাচ ও মার্শাল আর্ট দেখতে পারেন।  তবে এইদুটি জিনিস আপনি ঠেকাড্ডি তে দেখতে পারেন।  যদি কম সময়ে কেরল ঘুরতে চান তবে এই কথাকলি না ও মার্শাল আর্ট এখানেই দেখুন এবং থেকাদ্দি ভ্রমন থেকে বিরত থাকুন তাতে আপনার একদিন সময় বাঁচবে। 


দ্বিতীয় দিন - কোচিন থেকে মুন্নার

পরের দিন সকালে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন মুন্নারের উদ্দেশ্যে।  কচি থেকে মুন্নার প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরত্ব আর সরাসরি এলে সময় লাগবে ৩.৫ - ৪ ঘন্টা মতো।  সরাসরি গেলে ট্যাক্সিতে প্রায় ৩৫০০-৪০০০ টাকা ভাড়া পড়বে।  তবে আমার সাজেশন হবে কচি থেকেই একটা গাড়ি কয়েকদিনের জন্য বুক করে নিন।  যে আপনাদের কয়েক দিনে সকল জায়গা ঘুরিয়ে আবার কোচিন ছেড়ে দেবে। সেক্ষেত্রে দিনের হিসাবে ভাড়া হবে।  গাড়ি ভাড়া বিষয়ে পরে বলছি।  

কচি থেকে মুন্নার যাবার পথে পড়বে কয়েকটি জলপ্রপাত, ফটো পয়েন্ট, মুটুপিটি ড্যাম, ইকো পয়েন্ট, কুন্ডলা লেক ও স্টিল ব্রিজ। সব জায়গাগুলি ঘুরে যেতে বেশ সময় লেগে যাবে। এক্ষেত্রে ড্রাইভারের সাথে আগে কথা বলে নেবেন।    


তৃতীয় দিন - মুন্নার ভ্রমণ 

মুন্নার যেন এক টুকরো স্বর্গ

মুন্নার একটা অসাধারন জায়গা. এখানের মূল দেখবার মত জায়গা এখানের প্রকৃতি. পুরো মুন্নার জুড়ে রয়েছে সবুজ চা বাগান. যে দিকেই তাকাবেন দেখতে পাবেন সবুজ চা বাগানে ঢাকা ঢেউ খেলানো পাহাড়. এই দৃশ্য অবশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবে. তবে এখানে নির্দিষ্ট করে দেখবার মত জায়গাগুলোর মধ্যে আমার মতে প্রথমেই এই চা বাগান আর তারপরেই আসবে মুন্নার যেন এক টুকরো স্বর্গ।  

এই পার্ক জুড়ে রয়েছে বহু ধরনের পশু ও পাখি. তবে এখানের বিশেষ পশুর মধ্যে রয়েছে নীলগিরি থর. এরা এক জাতীয় পাহাড়ি ছাগল, যারা পাহাড়ের গা বেয়ে অনায়াসে উঠে যেতে পারে বহুদূর. এই national park এ আপনার টিকিট কেটে, পার্কের বসে করে উপরে উঠে যেতে হবে. তার পর তারা আপনার নামিয়ে দেবে একটা জায়গায় আর সেখানের থেকে হেঁটে উঠে যেতে হবে এই পার্ক ঘুরে দেখবার জন্য. এই পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে হালকা জলধারা যা ছোট ঝর্নার সৃষ্টি করেছে, আর এখানের পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা করা এক কথায় অসাধারণ. 

নিলকুরুঞ্জো ফুল প্রতি ১২ বছরে একবার। 

টিকিট : এখানে প্রবেশের জন্য টিকিট এর প্রয়োজন হবে।  টিকিটের দাম ভিডিওয়ের শেষে জানাচ্ছি।

মুন্নার যেন এক টুকরো স্বর্গ


অন্য জায়গা গুলির মধ্যে  

  • Giyapara waterfalls
  • Velara waterfalls
  • Munnar rose garden
  • Palivassel waterfalls
  • Chinna kavalam waterfalls
  • Ripple waterfalls

থাকার জায়গা 

আমরা ছিলাম : grace munnar নামক এক হোটেলে তবে আপনারা চাইলে মুন্নার বাজারের কাছেই থাকতে পারেন। এখানে অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন।  

মুন্নার এ বিশেষ ভ্রমন চাইলে : অফ রোড মুন্নার দেখার জন্য জিপ গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন।  এক্ষত্রে দিনপ্রতি আনুমানিক ৩-৪ হাজার এর প্রয়োজন হবে । মুন্নার ভালভাবে ঘুরবার জন্য দুই রাত্রি এক দিন। অর্থাৎ যে দিন কচি থেকে আসছেন তার পরের দিনটা ঘুরে রাত্রে থেকে তার পরের দিন সকালে পরের গন্তব্যে যেতে পারেন।  


Day ৪ -  মুন্নার থেকে থেক্কাদী - কথাকলি ও মার্শাল আর্ট

মুন্নার থেকে সকালে খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন থেককাদির উদ্দেশ্যে। আজ তৈরি থাকুন পথে দারুন সুন্দর সব দৃশ্য দেখবার জন্য। এই পথে চেন্নাই এক্সপ্রেস সিনেমার অনেকগুলি শুটিং হয়েছিল। ড্রাইভার আপনাদের যেতে যেতে সেসব জায়গার বেশি কিছু ঘুরিয়ে দেখাবে। চাইলে আপনিও গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলে নিতে পারবেন। এই দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার।  আপনি চাইলে অনায়াসে তিন থেকে চার ঘণ্টা বা আরো বেশি সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন এই রাস্তায়। চেষ্টা করুন দুপুরের আগে thekkadi পৌঁছানোনোর। রাস্তায় দেখে নিন spice garden। আর চাইলে কিছু মশলা কিনেও নিতে পারেন। 

Thakkadi বাজারে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন তারপর পারিয়ার লেক ঘুরবার টিকিট কেটে নিন, কারণ এই টিকিট খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। এর পরে হোটেলে চেক ইন করুন।  এই দিন সন্ধ্যায় দেখে নিন কেরলের ট্রাডিশনাল মার্শাল আর্ট ও কথাকলি নাচ। 

রাত্রে হোটেলে কাটিয়ে পরের দিন সকালে পেরিয়ার লেক ভ্রমন করুন । চাইলে পেরীয়ার লেকের ভেতরেই কেরল সরকারের হোটেলে রাত কাটাতে পারেন। 

ইচ্ছা হলে থেক্কাডিতে হাতি সাফারি করতে পারেন।  


Day ৫ - আলেপ্পি ব্যাক ওয়াটার 

ব্যাক ওয়াটারে হাউস বোট 

সকালে পেরিয়ার লেক ঘুরে বেরিয়ে পড়ুন আল্লেপি ব্যাক ওয়াটারের উদ্দেশ্যে। চাইলে এই দিন টা আল্লিপিতে হাউস বোট এ থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাদের পেরিয়ার লেক ভ্রমণ আগের দিন করে খুব সকালে থেক্কাডি থেকে আলেপ্পি এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তে হবে নইলে সকালে অল্লেপি পৌঁছাতে হাউস বোট এ পৌঁছেতে দেরি হয়ে যাবে। কারণ হাউস বোট চেক দিন সাধারণত সকাল ১০ টা নাগাদ শুরু হয়।  

Alleppey তে যদি হাউস বোটে  ঘুরবার প্ল্যান থাকে তবে হোটেল নেবার দরকার নেই। আর যদি শুধু সিকারা করে ব্যাক ওয়াটার ঘুরবার প্ল্যান করেন তবে thekkadi থেকে একটু দেরীতে বেরিয়ে Alleppey তে হোটেল চেক ইন করে দুপুরের পরেও সিকরা ঘুরে নিতে পারেন। হাউস বোট এর ক্ষেত্রে আপনাদের বোট এ থাকা ও তিন বারের খাবার ব্যবস্থা হবে। সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে বেশি বেশি। দুই জনের ঘর ৬০০০ টাকা বা তার বেশি ধরে নিতে পারেন। পুজো ও পিক সিজিনে খরচ দুই জুন বা বেশি হতে পারে। তবে আপনাদের একত্রে আলাদা করে হোটেল বা খাবারের খরচ লাগছে না। আর সিকরা হলে তিন ঘণ্টায় প্রায় ১৬০০-২০০০ টাকা খরচ হবে শুধুমাত্র ঘুরবার জন্য। 

আর যদি খুব কম খরচে এই ব্যাক ওয়াটার ঘুরবার ইচ্ছা থাকে তবে কেরল সরকারের ওয়াটার বাস যা আসলে খাল ও নদীর মধ্যে সরকারি বোট সার্ভিস সেটা করে ঘুরে নিতে পারে। সেক্ষেত্রে মাথা পিছু ১০০ টাকার কম খরচে হয়ে যাবে।  অবশ্য এই ভ্রমণ হাউস বোট বা শিকারের মতো উপভোগ্য হবে না।   


Day ৬ - বাড়ি ফেরা অথবা দক্ষিণ কেরলের দিকে ভ্রমণ 

Alleppey ঘুরে রাত্রে কোচিন থেকে ট্রেন বা প্লেন ধরে ফেরার পথ ধরতে পারেন। কেরলের সব চেয়ে জন্যপ্রিয় জায়গাগুলি ইতোমধ্যেই আপনি ঘুরে ফেলেছেন। আর যদি সময় ও বাজেট থাকে তবে এবার চলুন কেরল এর দক্ষিণ দিকে, যে ভ্রমন এবারে শেষ হবে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী তে। 

অথবা Alleppey থেকে এবারে কেরলের দক্ষিণ দিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকুন। এটা আপনারা গাড়ি নিয়ে করলেই ভাল ভাবে ঘুরতে পারবেন। Alleppey এর বোট হাউস চেক আউট হবে বেরিয়ে চলে আসুন ভারকালা বিচ। খুবই সুন্দর এই বিচ এর পাশে চাইলে যেকোনো হোটেলে একটা রাত্রি কাটাতে পারেন। এখানেই এই দিনের সূর্যাস্ত দেখে, বিচে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে হোটেলে ফিরে যান। 


Day ৭ - জটায়ু রক ও ট্রিবন্দাম যাওয়া

জটায়ু পাখির মূর্তির সামনে
ভারকালা হোটেল থেকে সকাল সকাল চেক আউট করে এবারে চলুন জাটায়ু রক দেখবার উদ্দেশ্যে। রামায়ণে বর্ণিত রাবণের ও জটায়ু পাখির যুদ্ধ কে স্বরণ করে এই পাখির মূর্তির তৈরী করা হয়েছে। আমার মতে এটা আধুনিক ভারতের সব চেয়ে সুন্দর ও পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বড় পাখির মূর্তি। এই মূর্তির মাধ্যমে নারীর সম্মান রক্ষার্থের প্রয়োজনে জীবন ত্যাগ স্বীকারও যে করতে হতে পারে সেটাই এখানে বোঝানো হয়েছে। এই মূর্তিটি একটি পাহাড়ের মাথায় যেখানে কেবল কার বা রোপ way এর মাধ্যমে বা হেঁটে প্রায় ৮০০ সিড়ি ভেঙে পৌঁছাতে পারেন। এই মূর্তি এমন পাথর দিয়ে তৈরী যে দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোর প্রতিফলনে এর রং বদলায়।  

জটায়ু রক দেখে চলে আসুন ট্রিবন্দম শহরে। এটি কেরলের রাজধানী শহর। এখানের যে কোনো হোটেলে চেক ইন করে চাইলে বিকালে ঘুরে নিন এখানে বিখ্যাত শ্রী পদ্মনাস্বামি মন্দির। এই মন্দিরে ভোর ৩:৩০ থেকে দুপুর ১ টা ও বিকালে ৫ টা থেকে রাত্রি ৮:৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। সকালে জটায়ু রক ঘুরে অনায়াসে বিকালে এই মন্দির ঘুরে নিতে পারবেন। আর যদি পরের দিন সকালে এই মন্দির ঘুরতে চান তবে আগের দিন কোভালাম বিচ গিয়ে সন্ধ্যা কাটিয়ে পরের দিন এই মন্দির ঘুরে নিন। তাতে অবশ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার উল্টো দিক অর্থাৎ উত্তর দিক ফিরতে হবে। তবে আমার মতে অবশ্য সেটাই উচিত হবে। কারণ কোভালাম বিচ খুবই সুন্দর একটা জায়গা যেখানে আরব সাগরের পাড়ে ছোট পাহাড় এর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এখানে রাত্রে ডিনারে স্থানীয় সামুদ্রিক মাছ ভাজা অবশ্যই টেস্ট করবেন। এতে একটু খরচ হলেও বিষয়টা খুবই উপভোগ্য। 


কোভালাম সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত

Day ৮ - পদ্মনাস্বামি মন্দির ঘুরে কন্যাকুমারী পথে 

এই দিন সকালে চান করে, যথাযথ পোশাক পরে শ্রী পদ্মনাস্বামি মন্দির ঘুরে নিন। খেয়াল রাখবেন এই মন্দিরে কিন্তু জিনস বা আধুনিক পোশাকে প্রবেশের অনুমতি নেই। এখানে এলে ধুতি বা শাড়ি জাতীয় পোশাক পরে আসবেন। সকালে মন্দিরে পুজো দিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ুন দক্ষিণ দিকের উদ্দেশ্যে। আজ আমাদের যাত্রা শেষ হবে ভারতবর্ষের একেবারে সর্বশেষ দক্ষিণের স্থান কন্যাকুমারীতে । পথে যেতে যেতে চাইলে পূর্ভার ব্যাক ওয়াটার সাফারি ঘুরে নিতে পারেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টায় এই সাফারি করে নেয়া সম্ভব। জল-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এই নৌকা ভ্রমণ আপনার কেরল ভ্রমণকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাবে।  দুপুর নাগাদ এখানে পৌঁছে বিকালের আগেই সাফারি করে সন্ধার আগে চলে যান কন্যাকুমারী। 

সন্ধ্যার আগে কন্যাকুমারী পৌঁছাতে পারলে চলে যান sunset পয়েন্টে থেকে ভারত মহাসাগরের বুকে এক অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখবার জন্য। 

আপনারা যদি এই পর্যন্ত গাড়ি রিজার্ভ করে ঘুরে থাকেন তবে কন্যাকুমারী পৌঁছে গাড়ি ছেড়ে দিতে পারেন, কারণ কন্যাকুমারী ঘুরবার জন্য লোকাল গাড়ি বা অটো নিলেই কম খরচে ঘুরতে পারবেন। 


Day ৯ - কন্যাকুমারী ঘোরা ও বাড়ি ফেরা 


কন্যাকুমারীতে বিবেকানন্দ মেমোরিয়াল রক 

কন্যাকুমারী তে এই দিন  সকালে উঠেই চলে যান সূর্যোদয় দেখবার জন্য। সকালে সূর্যোদয় দেখেই তারপর চলে আসুন বিবেকানন্দ মেমোরিয়াল রক দেখবার জন্য। মাথায় রাখবেন বিবেকানন্দ রক দেখবার জন্য খুবই লম্বা লাইন হয়। এখানের  সাধারণ টিকিট ৫০ টাকা, আর তাড়াতাড়ি চাইলে special টিকিট ২০০ টাকায় কেটে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যাবার সময় আপনার খুব লম্বা লাইন দিতে না হলেও ফিরবার সময় সাধারণ লাইন দিয়েই ফিরতে হবে। খুব সকালে এখানে লাইন দিলে হয়ত বেশি সময় লাগবেনা।   যদিও এখানে সাধারণত খুবই ভিড় হয়।  সপ্তাহ শেষে বা ছুটির দিন খুবই লম্বা লাইন হয়ে থাকে।  এমন দিনে ঘুরবার জন্য আমাদের প্রায় তিন ঘন্টা লাইনে দাড়াতে হয়েছিল। 

কন্যাকুমারী এর বাকি জায়গা ঘুরবার জন্য হোটেল থেকে ট্রাভেল বাস এর টিকিট নিয়ে নিতে পারেন। তারাই আপনাকে অর্ধ দিবস ঘুরবার প্ল্যান করে দেবে। এতে সব জায়গায় ঘুরেও নিতে পারবেন আবার খরচও কম হবে। 

সারাদিন ঘুরে রাত্রে বা পরের দিন ভোরে কন্যাকুমারী থেকে বাড়ি ফিরবার ট্রেন ধরতে পারেন। 

কন্যাকুমারী থেকে ভোরে ছেড়ে সরাসরি হাওড়া যাবার ট্রেন পাবেন আবার অনেক ট্রেন via চেন্নাই বা মাদুরাই হয়ে হাওড়া পৌঁছায়। IRCTC থেকে ট্রেনের তথ্য পেয়ে যাবেন। 


মোট খরচ

যে কোনো ভ্রমণের খরচ কত হতে পারে এটা বলা খুবই কঠিন কারণ প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা। তবে কি করলে কম খরচে ঘুরতে করবেন ও কত খরচ হতে পারে তার একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করছি। নিম্নলিখিত খরচ ২০২৩ এর, আপনি প্রতি বছর হিসাবে ৫%~৭% বেশি খরচ ধরতে পারেন। গাড়ি , হোটেল, খাবার এর খরচের একটা ধারণা দিচ্ছি যার থেকে আপনি নিজেই খরচ হিসাব করে নিতে পারবেন।  

কেরলের মত এত দূরে ঘুরতে এলে ভাল ভাবে প্ল্যান করে নিন। চেষ্টা করুন একটু বড় টিম তৈরি করবার। কেরল এ গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলেই ভাল ঘুরবেন ফলে মাথায় রাখুন প্রাইভেট গাড়িতেই ঘুরবেন। তাছাড়া বেশিরভাগ জায়গায় পাবলিক গাড়ি সময় মতো পাবেন না ফলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করে ঘোরা সম্ভব হবে না।  


গাড়ী খরচ 

প্রাইভেট ছোট গাড়ি হলে ৪ জন, এর চেয়ে বড় টিম হলে ৬ জন বা ৮ জন আর আরো বেশি লোক হলে ১২ বা ১৫ জনের টিম তৈরি করুন। এখানে ছোট গাড়ি ৫ সিট  বা ৭ সিটের ইনোভা বা ertiga বা ৯ সিটের বেলোরো গাড়ি পাওয়া যায়। এর চেয়ে বড় গাড়ি হল ছোট ট্রাভেল বাস গুলি। বাস ও ইনভা গাড়ির ভাড়া খুব একটা আলাদা নয় কিন্তু বড়ো টিমে বাস নিলে মাথা পিছু খরচ কম পড়বে। ৫ সিটের গাড়ি প্রতি দিন কমবেশি ৩০০০-৩৫০০ টাকা ও ৭ সিটের গাড়ি ৪৫০০-৫০০০ টাকা পড়বে। আরো বড় গাড়ি হলে খরচ আরেকটু বেশি হবে। আপনার কত দিনের ভ্রমন সেই হিসাবে গাড়ির খরচ বের করে নিতে পারবেন। যদি গাড়ি নিয়ে কন্যাকুমারী যান তবে কেরল থেকে তামিলনাড়ু যাবার জন্য পারমিট বাবদ কিছু টাকা বেশি দিতে হবে।


হোটেল খরচ

গোটা কেরল বিভিন্ন মানের হোটেল পাবেন।  তবে যে কোনো জায়গায়  দুই রুমের হোটেল ১৫০০-২০০০ টাকা দিন প্রতি ধরুন। এটা আমি এসি হোটেলের ভাড়া বললাম, যদি নন এসি চান তবে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। অবশ্য প্রাইম লোকেশন মানে সমুদ্রের বিচ এর একেবারে পশে হোটেল নিতে গেলে আরো বেশি ভাড়া গুনতে হবে। 

কন্যাকুমারী তে হোটেলের খরচ বেশ কম, এখানে চাইলে ৭০০-৮০০ থেকেই নন এসি হোটেল পেয়ে যাবেন। এসি  হোটেল ১৫০০-২০০০ এর মধ্যে পাবেন । 

Alleppey তে দুই রুমের বোট হাউস ভাড়া অফ সিজনে ৫০০০-৬০০০ টাকা দিন প্রতি হবে । কিন্তু এই খরচ দূর্গা পুজোর সময় বা ২৫ শে ডিসেম্বরে অনেক বেড়ে যায়, সেসব সময় ভিড় অনুসারে ১৫,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে, এরপরও রুম পাওয়া সমস্যা হতে পারে। ফলে পুজোর সময় এলে অবশ্যই আগে বোট ভাড়া করবেন। অন্য সময় স্পট বুকিং এ কম খরচে পেতে পারেন আবার হটাৎ অনেক ডিমান্ড হলে বেশি ভাড়ার দরকার হতে পারে। তবে গোটা বছরই সোম থেকে বৃহস্পতি বারে তুলনামূলক ভাবে কম ভাড়া হয়।  


খাবার 

খাবারের খরচ পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার পছন্দের ওপরে। কেরলের ভেজ থালি খুবই সুস্বাদু। থালি ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া যায়। সকালে কেরলের স্থানীয় খাবার যেমন ধোসা - ইডলি জাতীয় খেলে ৭০-১০০ টাকায় হয়ে যাবে । রাত্রে খাবার আবার ১২০-১৫০ টাকায় পেয়ে যাবেন। এটা সর্বনিম্ন খরচ। এবারে নন ভেজ আপনার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। তবে সব মিলে এক জনের  প্রতি দিন ৭০০-৮০০ টাকায় খুবই ভাল ভাবে পছন্দ মতো নন-ভেজ খাবার হয়ে যাওয়া উচিত। 

Alleppey ও kovalam এ স্পেশাল সি ফুড খাবার জন্য মাথা পিছু আরো ৩০০ টাকা এক্সট্রা ধরে রাখবেন। 


বিভিন্ন জায়গার  টিকিট খরচ 

কচি 

কচি টিকিট ফোর্ট  ও অন্য জায়গার জন্য মাথা পিছু ১০০ টাকা ধরুন।  

মুন্নার

এরাভিকুকাম national park এ ভারতীয়দের জন্য টিকিট খরচ ২০০ টাকা ও ক্যামেরার জন্য ৫০ টাকা, ভিডিও ক্যামেরার জন্য ৩৫০ টাকা লাগবে ।  ছোটদের হাফ টিকিট লাগবে।  

Thekkadi

মার্শাল আর্ট ৪০০ টাকা

পেরিয়ার লেক - বড় দেড় ২২৫ টাকা , ছোটদের ৭৫ টাকা।

Alleppey

যদি হাউস বোট এর খরচ আগেই বলেছি আর যদি  শিকারা নিয়ে ঘুরবার প্ল্যান করেন , তিন ঘন্টার জন্য ১২০০-১৮০০ টাকা পড়বে। পিক সিজিনে আরো বেশি লাগাতে পারে। 

জটায়ু রক

জটায়ু রকের টিকিট ও কেবল কার এর টিকিট ৫৫০ টাকা 

পূর্বার সাফারি

তিন ঘন্টার সাফারির জন্য ২৫০০-৩০০০ টাকা ধরতে পারেন। 

কন্যাকুমারী

বিবেকাননদ মেমোরিয়াল রক ৫০-২০০ টাকা 

বাস করে অর্ধ দিবস ভ্রমন - মাথা পিছু ৩৫০ টাকা 


ব্লগ সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Friday, 11 November 2022

ব্যাঙ্গালোরের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান, places Near Bangalore

From: Bangalore

0 to 50kms:
* T.G reservoir.
* Manchinbele reservoir.
* Kanva.
* T.K falls.
* Shanmukha temple.
* N.G lake.
* Ramnagar.
* Revanasiddeshwara trek
* Hesarghatta Grasslands

50 to 100kms:
* Maddur.
* Mekedatu.
* Pearl Valley (Muthaylamaduvu).
* Chunchi waterfalls.
* Kabbaladurga Trek.
* Maasti Malur.
* Makalidurga Railway trek.
* Mandharagiri Trek.
* Narayanagiri Trek
* Huthridurga Trek

100 to 150kms:
* Mekedatu & Sangama.
* Gaganchukki & Barachukki.
* Melukote.
* Balmuri falls.
* Markonahalli dam.
* Channarayanaddurga trek.
* TonnurKere.
* Panchapalli dam.
* Somnathpura.
* Srirangapatna.
* Madhugiri trek.
* Maasti Malur.
* Mahadevapura.
* Shravanbela gola

150 to 200kms:
* Talakadu.
* Chamundi Hills.(Mysore)
* Mahadevpura.
* Hogenekkal
* BR hills.
* Yelagiri.
* Lepakshi.

200 to 250kms:
* Vani Vilas Dam.
* Biligirirangan betta.
* Chitradurga fort.
* Himvadgopalswamy Betta.

250 to 300kms:
* Gingee fort.
* Yercaud.
* MM hills.

300 to 350kms:
* Pondicherry.
* Coorg(Madikeri).
* Chikmaglur.

Saturday, 22 October 2022

হাম্পী ভ্রমন গাইড




১৫৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে এক শীতের সকাল। হাম্পির রাজা আলিয়া রামা রায়ার কাছে দিনটি একটু আলাদাই ছিল। বিগত প্রায় ২৫০ বছর ধরে তার পূর্বপুরুষরা তখনকার বিখ্যাত বিশাল বিজয়নগর সাম্রাজ্যকে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ হিন্দু সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যার বিস্তৃতি কলিঙ্গ থেকে ভারতবর্ষের দক্ষিণের শেষ সীমানা পর্যন্ত। তারসাথে রয়েছে অর্থকারী মশলার ব্যাবসা। যে ব্যাবসার মাধ্যমে সুদূর পারস্য এমনকি ইউরোপ এর সাথেও যোগাযোগ রয়েছে। তারই রাজধানীতে মশলার সাথে নিয়মিত চলে মধ্য এশিয়া থেকে আনা অতি উচ্চমানের ঘোড়া কেনাবেচার ব্যাবসা। রাজ্যের মানুষ এর জীবন জীবিকা খুবই ভালভাবে কেটে যায়। ধনসম্পদ, মানি মানিক্যে রাজকোষ পূর্ন। তাদের রাজত্বের সুনাম এতই ছড়িয়ে পড়েছে যে পারস্য থেকে আসা পরিব্রাজক বলেই দিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ট এক রাজ্য। এমন দেশ তিনি আর কোথাও দেখেননি। 

কিন্তু গত কয়েক দশকে গোটা উত্তর ভারত সুলতানী ও মোঘল শাসন শুরু হয়েছে। তার নিজের রাজ্যের পাশেও রয়েছে মুসলিম সুলতানী শাসকদের রাজত্ব। অবশ্য এর আগেও বেশ কয়েকবার ছোট খাটো যুদ্ধে তারা এমন ভাবে হেরেছে যে রাজা ওদের একেবারেই গ্রাহ্য করেন না। বিশাল বিজয়নগর রাজত্বের পাশে তারা একবারই নস্যি। মাঝে কয়েকবার তারা একটা আলোচনার ইচ্ছা জানলেও রাজা সেসবে একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে বেশ করে অপমান করে দিয়েছেন। আর কেনই বা শুনবেন ওসব রাজাদের কথা। বিজয়নগর রাজ্যের রয়েছে বিশাল সেনা বাহিনী, সেখানে বিদেশ থেকে আনা ঘোড়ার বাহিনী সহ রয়েছে বিশাল হাতি ও পদাতিক বাহিনী। তবে এবারে তার রাজ্যের চার দিকে থাকে চার ছোট ছোট রাজ্যের সুলতানী রাজারা তালিকাটে জোট বেঁধেছে, বিজয়নগর রাজার বিরুদ্ধে যুধ করবে বলে।
রাজা ভেবেছিলেন এবারও যুদ্ধ অন্য বারের মতন হবে। কিন্তু এবার সেটা হল না। রাজা ধরা পড়লেন সুলতানী রাজাদের হাতে। তৎক্ষণাৎ সুলতানী শাসক তার মুন্ডুছেদ করে এক বল্লমের মাথায় টানিয়ে বিজয়নগর এর সেনাদের ভয় দেখাতে থাকল। রাজার ভাইরা যুদ্ধে প্রতিরোধ না করে ভয় পেয়ে গেলেন। বিজয়নগর এর বিশাল সেনা বাহিনী নেতৃত্বের অভাবে ছত্র ভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেল। ২৩ জানুয়ারি ১৫৬৫ বিজয়নগর এর গৌরবময় সাম্রাজ্যের পতন ঘটল এই তালিকাটের যুদ্ধে।
যুদ্ধে জিতেই সুলতানী সেনারা আক্রমণ চালালো বিজয়নগর রাজধানীতে। সেই সময় বিজয়নগর ছিল প্রায় ১০ লাখ মানুষের বাস। নিমেষের মধ্যে সবাই প্রাণ বাঁচাতে সব ফেলে এই সুন্দর শহর ছেড়ে যে দিকে পারল পালিয়ে গেল। বিজয়নগরে চলল সুলতানী সেনাদের লুণ্ঠন। লুণ্ঠিত সম্পদ প্রায় ৬ মাস ধরে একশোটা হাতি দিয়ে তারা নিয়ে গেল এই সুন্দর শহর থেকে। গোটা শহর জুড়ে ছিল অসম্ভব সুন্দর কাজ, ছিল বহু মূর্তি, মন্দির আরো শহর সাজানোর কত কি! সুলতানী সেরাদের ক্রোধ গিয়ে পড়ল এসবের পরে। এক এক করে যা পারল সেটাই ভেঙে গুড়িয়ে দিল। তারপর একসময় সব শেষ করে তারাও এই সুন্দর শহরকে ধ্বংস করে চলে গেল। এর পর বিগত ৫০০ বছর ধরে শুধুই পড়ে রইল এক পরিত্যাগতো জনপদ।যা আর কখনোই আগের গৌরব লাভ করেনি।
আজ এই ভ্রমন কাহিনীতে এই হারিয়ে যাওয়া শহর বিজয়নগর বা বর্তমানের Hampi ঘুরে দেখব, এবং জানাবো কি ভাবে আপনি এখানে ঘুরে দেখে নিতে পারবেন সর্বকালের শ্রেষ্ট হিন্দু রাজার রাজত্ব।

 _____
আপনারা যদি গোয়া ভ্রমন এর পরিকল্পনা করেন তবে তার কাছে অবস্থিত Hampi অবশ্যই ঘুরে নেবেন। অবশ্য ইতিহাস ও ভারতের পুরনো ঐতিহ্যে সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে আপনার পছন্দের অন্যতম সেরা স্থান হতে পারে এই Hampi বা ইতিহাসের বিজয়নগর রাজ্য। Hampi গোয়া থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা দূরে অবস্থিত। আবার Bangalore বা হায়দ্রাবাদ থেকেও কয়েক ঘণ্টায় Hampi পৌঁছানো যায়।
দুই দিনে কি ভাবে Hampi ও কিস্কিন্ডা ও ঘুরে দেখবেন, কোথায় থাকবেন ও খরচ কত হতে পারে, তার সম্পূর্ন তথ্য পাবেন এই ভিডিওতে। এটি Hampi ভ্রমন গাইড, ফলে সমস্ত জায়গা গুলির শুধুমাত্র মূল তথ্য টুকু তুলে ধরব। কোনো জায়গা সম্পর্কে বিশদে জানতে চাইলে সেই জায়গার vlog দেখে নিতে পারেন। লিংক description এ পেয়ে যাবেন।
---------------

Hampi ভৌগলিক অবস্থান
হাম্পী দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। জায়গাটি ব্যাঙ্গালোর থেকে ৩৫০ কিলোিটার, গোয়া থেকে ৩২০ কিলোমিটার এবং হায়দ্রাবাদ থেকে ৩৮০ কিলোমিটার, অর্থাৎ এই তিনটি জায়গার প্রায় মাঝামাঝিতে অবস্থিত। এখানে রয়েছে অগুণিত ছোটবড় টিলা এবং এর পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে তুঙ্গভদ্র নদী। নদীর ওপর পাশে রয়েছে রামায়ণ এ বর্ণিত বালি ও সুগ্রীব এর কিস্কিন্দ। 



হাম্পীতে কি ভাবে পৌঁছাবেন
Hampi এর কাছের রেল স্টেশনের নাম Hospet।
হাওড়া থেকে Amaravathi Express -18047 করে hosapet পৌঁছে যান। এই ট্রেনটি করেই হাওড়া থেকে গোয়া পৌঁছানো যায়। আর যদি গোয়া থেকে আসতে চান তবে গোয়া হাওড়া ট্রেন করে অথবা গোয়া থেকে বাসে ৬ ঘণ্টায় Hampi পৌঁছে যেতে পারেন। তবে আপনি ব্যাঙ্গালোর থেকেও রাত্রির বাসে Hampi পৌঁছাতে পারেন। আবার বেশ কয়েকটি ট্রেন সন্ধ্যায় Bangalore থেকে ছেড়ে পরের সকালে Hospet পৌঁছায়। আর গাড়িতে যেতে চাইলে মাত্র ৭ ঘণ্টায় Hampi পৌঁছে যেতে পারেন। 
যদি আপনি হায়দ্রাবাদ থেকে ট্রেনে Hampi যেতে চান তবে Hyderabad-Kolhapur Express (11303) এবং Hyderabad -Vasco/Hubli Express (17603) ট্রেনে বা রাত্রির বাসে Hampi পৌঁছে যেতে পারেন।
Hospet পৌঁছে অটো নিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন ১২ কিলোমিটার দূরের Hampi তে, অথবা লোকাল বাসও নিতে পারেন। তবে বলব Hospet থেকেই অটো ভাড়া নিয়ে নিন পুরো Hampi ঘুরে দেখবার জন্য। অটো ভাড়া দিন প্রতি ১৫০০-১৬০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।

হাম্পী এর ইতিহাস ও পৌরাণিক গুরুত্ব
ইতিহাসের বিজয়নগর এর বর্তমানের হাম্পী। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কাহিনী আমরা ইতিহাস বইয়ে পড়েছি। বিজয়নগর সাম্রাজ্য ছিল ভারতবর্ষের সব চেয়ে সমৃদ্ধশালী হিন্দু রাজত্ব। কথিত আছে সেই সময়ের পৃথিবীর সব চেয়ে ধনী শহর ছিল এই বিজয়নগর। 

হুক্কা ও বুক্কা দুই ভাই ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে বিজয়নগর রাজত্বের প্রতিষ্ঠা করেন। সম্ভবত হুক্কা রাজার অপর নাম প্রথম হরিহর। অতীতে তারা ছিলেন হয়েশালা রাজত্বের সেনাপতি। দিল্লির সুলতান বিন তুঘলক এর কাছে যুদ্ধে হেরে বন্দী হন। এরপর তারা বিন তুঘলক এর নির্দেশে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং হাম্পী এর অংশ শাসন এর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী এর প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তারা আবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন। এবং তারাই হয়ে ওঠেন ভারতবর্ষের শ্রেষ্ট হিন্দু রাজা।
১৫০৯ খ্রিস্টাব্দ এই রাজ্যের রাজা হন কৃষ্ণ দেব রায়। এনার সময় বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সব চেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। এবং বর্তমানের দৃশ্যমান বেশিরভাগ কীর্তি তার সময়েই তৈরি। 
তুঙ্গভদ্রা নদীর অপর পাশে রয়েছে রামায়ণের কিষ্কিন্ডা রাজত্ব । এখানে রয়েছে হনুমান এর জন্মস্থান। রামায়ণের শ্রীরাম চন্দ্রের সাথে হনুমানের সাক্ষাৎ। শ্রীরামের তীর মেরে পাথর থেকে জল বের করবার কাহিনী। বালি ও হনুমানের যুদ্ধের সময় শ্রীরাম তীর মেরে বালিকে এখানে বধ করেন এবং রাবণ সীতা মাকে অপহরণ করে নিয়ে যাবার পর এখানে একটা জায়গায় বসে শ্রীরাম বাকিদের সাথে মিলে তাকে উদ্ধার পরিকল্পনা করেন। 


কখন আসবেন
শীত কাল Hampi ভ্রমণের জন্য সব চেয়ে উপযুক্ত সময়। গরমে এখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি এর বেশি হয়ে যায় ফলে গরমে এই জায়গায় না আসাই ভাল। তবে আগস্টে বৃষ্টি শুরু হলে যাবার ফলে এই সময় চাইলে আসতে পারেন। এই সময় মধ্য দুপুরে গরম হলেও সকাল ও বিকালের আবহাওয়া বেশ মনোরম। ফলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে আসবার সব চেয়ে উপযুক্ত সময়। এই একই সময় আবার গোয়া ভ্রমণের জন্যও উপযুক্ত সময়। ফলে এই দুটি জায়গা এক সাথে প্ল্যান করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন
Hampi তে থাকবার মত বেশ কিছু হোটেল ও প্রচুর হোম স্টে রয়েছে। আবার।চাইলে Hospet থেকেও হাম্পি ঘুরতে পারেন। চাইলে এখানে এসে আপনি কোনো হোম স্টে খুঁজে নিতে পারেন অথবা অনলাইন এ বুক করে আসতে পারেন। তবে বলব পারলে অনলাইনে খুঁজে বা বুক করে এখানে আসুন তাহলে হোটেল খুজবার সময় বাঁচবে। আবার আপনার অটো ওলা আপনায় এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে। তবে Hampi রইলে বাজারের কাছেই কোথাও থাকবার চেষ্টা করুন তাতে বিভিন্ন দিকে ঘুরবার সময় যাতায়াতের জন্য সুবিধা হবে। আমরা ছিলাম Rohit হোম স্টে তে তার ফোন নম্বর 9448853954/8550853276, এখানে আমাদের দিন প্রতি ১৫০০ টাকা ভাড়া লেগেছিল। বেশ সুন্দর পরিষ্কার ঘর এবং ভাল লোকেশনে। তবে খাবার খরচ বেশি, ফলে চাইলে বাইরে খেয়ে নিতে পারেন। এই হোম স্টে এর ভিডিও আমার hampi vlog এ পেয়ে যাবেন। আর এখানে রয়েছে বেশ কিছু দামী হোটেল, এমনই একটা hampi মিউজিয়াম এর উল্টো পাশে রয়েছে যেখানে অনেক বিদেশিদের দেখেছি। এখানের একদিনের ঘর ভাড়া ৫০০০ টাকার কাছাকাছি তবে অনলাইনে ভাল অফার পেলে কমে ঘর পেয়ে যাবেন।

Hampi কি ভাবে ঘুরবেন ও কি দেখবেন
Hampi ঘুরবার জন্য সব চেয়ে ভাল উপায় এখানে এসে অটো ভাড়া নেয়া অথবা Hospet থেকে বাইক ভাড়া নিয়ে নিন। অটো ভাড়া দিনে ১৫০০ টাকার মত হবে এবং বাইক বা স্কুটার ২৫০-৩৫০ টাকার মত হবে। তেল এর খরচ আপনার।  


 Hampi তে মোট ৮৪ টি জায়গা আছে, ফলে সবটা দেখা খুবই কঠিন। তবে অন্তত দুই দিন হলে প্রধান জায়গাগুলো ঘুরে নিতে পারবেন। প্রথম দিন Hampi এর শহরের মধ্যে ও আশপাশে ঘুরে নিতে পারেন। তুঙ্গভদরা নদীর এক পাশে রয়েছে Hampi অন্য পাশে কিস্কিন্দা। দুই দিক দুই দিনের প্ল্যানে ঘুরলে সুবিধা হবে। আমি প্রথম ও দ্বিতীয় দিন হিসাবে বলছি আপনি নিজের সুবিধামত প্রথম বা দ্বিতীয় দিন ঠিক করে নিতে পারেন।

প্রথম দিন

প্রথম দিন দূরের জায়গাগুলো অর্থাৎ কিষ্কিন্দা ও বিজয়া ভিতারা মন্দির দেখে নিন।

রাম মন্দির, এখানে শ্রীরাম তীর দিয়ে পাথর থেকে জল বের করেছিল। সকালে টিফিন করে সোজা চলে আসুন এখানে। এই জায়গাটা দেখতে ৩০-৪৫ মিনিট সময় নিন।
বজরং বলীর মন্দির, রাম মন্দির দেখা হলে চলে যান যেখানে শ্রীরামের সাথে হনুমানের দেখা হয়েছিল সেই জায়গায়। এখানে একটি হনুমান বা বজরং বলির মন্দির আছে। একটা মন্দির তাছাড়া বিশেষ কিছু দেখার নেই এখানে। এখানে ১৫-২০ মিনিট থেকে চলে যান পরের স্থানে।

হনুমানের জন্মস্থান
এর পর তুঙ্গভদ্রা নদী পার করে চলে যান বজরং বলি বা হনুমানের জন্মস্থানের জায়গায়। এখানে পাহাড়ের ওপরে হনুমান এর মায়ের একটি মন্দির রয়েছে। এখানের হনুমানের মুখের আকারের পাথরটি দেখতে ভুলবেন না। এই মন্দিরটি দেখতে আপনায় প্রায় ৫৫০ টি সিড়ি ভেঙ্গে উঠতে হবে। ফলে শারীরিক ভাবে যথেষ্ট সমর্থ না হলে উঠবার চেষ্টা করবেন না। এখানে উঠতে ও নামতে মোট দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। ফলে কম করে ২-২.৫ ঘণ্টা সময় রাখুন এর জন্য। এখানে প্রতি শনিবার বড় করে পূজা হয়, ফলে এই দিন বেশ ভিড় থাকে।



সানাপুর লেক / গোল নৌকা ভ্রমণ
বজরং বলীর জন্মস্থানের মন্দির দেখে চলে যান নৌকা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। এখানে আপনি বেশ কিছুক্ষন নৌকা বিহার করে নিতে পারেন। মাথা পিছু প্রতি আধ ঘন্টায় সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা মত নিয়ে থাকে।
চিন্তা মনি মন্দির 
চিন্তা মনি মন্দির শ্রীরামের উদ্দেশ্যে তৈরি। রাবণ যখন সীতা মা কে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তারপর শ্রীরাম চন্দ্র হনুমানজী ও অন্য সব সবাইকে নিয়ে এখানে বসে কি করা উচিৎ , কি ভাবে সীতামা কে উদ্ধার করা যায় সেসব পরিকল্পনা করেন। এখানে রয়েছে একটা বিশাল পাথর যাকে রাম পাথর বলে। অদ্ভুত সেই পাথর, বিশাল পাথর যা কিনা রয়েছে আরো কতকগুলো পাথরের ওপর ভর করে মাটি থেকে বেশ কিছুটা উচুতে। এর নিচে যদি কেউ থাকে ওপর থেকে কোনোভাবেই কিছু বোঝা যায় না। এছাড়া এখানে রয়েছে একটি ঘর যেখানে শ্রীরামচন্দ্র কাটিয়েছিলেন। এই মন্দিরটি তুঙ্গভোদ্র নদীর ঠিক পাশে অবস্থিত আর তার বিপরীত পাশেই রয়েছে বিজয়া বিত্তারা মন্দির।



বিজয়া ভিত্তারা মন্দির 
Hampi এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ স্থান বিজয়া ভিত্তরা মন্দির। এটি একটি বিষ্ণু মন্দির। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতনে এই মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল এবং বর্তমান এখানে আর পূজা হয় না । 
এই মন্দিরের থেকে প্রায় এক কিলমিটার দূরে গাড়ি রেখে তারপর পেয়ে হেঁটে যেতে পারেন অথবা পার্কিং এর পাশের থেকে ইলেকট্রিক গাড়ি পাবেন মন্দির পৌঁছানোর জন্য। ইলেকট্রিক গাড়ি ভাড়া মাথা কিছু ২০ টাকা যাতে আপনি যাওয়া ও ফেরা দুইই করতে পারেন। বয়স্ক বা বাচ্চা না থাকলে হেঁটে গেলে রাস্তায় আরো দুই একটি ছোট মন্দির পড়ে সেইগুলো দেখে নিতে পারবেন। এই মন্দিরের প্রবেশ মূল্য মাত্র ৪০ টাকা, যা দিয়ে এই মন্দির, মিউজিয়াম ও লোটাস মহল দেখা যাবে। তবে টিকিট এক দিনের জন্যই বৈধ্য।
মন্দির পৌঁছানোর আগে দেখবেন এই মন্দিরের সামনে রয়েছে অনেকগুলি থাম। যেটা বিত্তরা বাজার নামে পরিচিত। এই মন্দিরে যাবার সময় এইগুলো দেখা যায়। আগে এক সময় এখানেই বসত বিশাল বাজার। যেখানে বিদেশি ঘোড়া, দেশী মশলা ও সোনা রূপা ইত্যাদি কেনা বেচা চলত। 
এখানে রয়েছে hampi এর বিখ্যাত রথ । পুরাণ মতে বিষ্ণুর বাহন হল তার রথ। পাথরের তৈরি এই রথটি তার জনই তৈরি। এমন রথ গোটা ভারতে মত তিন টি আছে, একটি hampi তে, আরেকটি কোনারক এ এবং তৃতীয়টি মহাবলিপূরম এ।


এই মন্দিরের আরেকটি আশ্চর্য হল মিউজিক্যাল পিলার বা সা রে গা মা পা পিলার। এই পিলার আঘাত করলে সা রে গা মা পা এর সাত টি সুর বাজে। আর তার সাথে রয়েছে প্রতিটি সুরে এর আট টি স্কেল। এর জন্য এখানে মত ৫৬ টি পিলার রয়েছে। কিভাবে পাথরের তৈরি জিনিস থেকে এমন সুর বের হতে পারে এটা আশ্চর্য্য। আর এটা কি ভাবে সম্ভব সেটা বুঝতে ব্রিটিশ সরকার এটা নিয়ে গবেষণা চালায়। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে না পেরে তারা মনে করে এই পাথরের মধ্যে কিছু রয়েছে। ফলে দুটি পিলার কেটে দেখে কিছু আছে কিনা। এই কাটা পিলার দুটি আজও ওখানে রয়েছে। অর্থাৎ এখানে মত ৫৪ টি পিলার ভাল অবস্থায় রয়েছে। 



কিংস ব্যালান্স বা রাজার তুলাযন্ত্র 
এটি রাজার দাড়ি পাল্লা বলা যায়। বছরের বিশেষ দিনে যেমন দুর্গাপূজার সময়, চন্দ্র বা সূর্জগ্রহনের সময় অথবা এমন কোনো বিশেষ দিনে রাজা মন্দিরের পুরোহিতদের তার সম ওজনের সোনা রূপা ও অন্য সব দামী মনিমুক্ত দান করতেন। এই জন্য রাজা বসতেন এই তুলা যন্ত্রের একপাশে আর অপর পাশে সমস্ত মূল্যবান সামগ্রী রাখা হয়। এই ঘটনার আগে রাজার সাথে বেশ কিছু বিশেষ আয়োজন করা হত যা আমি আমার vlog এ বিশদে জানিয়েছি। সেসব গল্প জানতে চাইলে hampi vlog দেখে নিতে পারেন। 
বিজয় ভিত্তরা মন্দির ও অন্য জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে সব মিলিয়ে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পরে। অনেকসময় এখানে বেশ ভিড় হয়। 
এই কয়টি স্থান দেখতেই হয়ত আপনার পুরো দিন কেটে যাবে, ফলে এই দিন হয়ত আর কিছু দেখবার সময় পাবেন না। আর এই সকল জায়গার আশেপাশে খাবার জায়গা সেভাবে নেই। যার ফলে সাথে শুকনো খাবার ও জল রাখবেন। তবে হালকা খাবার, চা বা ডাবের হল প্রায় সকল জায়গায় পেয়ে যাবেন।


দ্বিতীয় দিন



Virupaksha Temple / বিরূপাক্ষ মন্দির
দ্বিতীয় দিন সকালে উঠেই প্রথমে চলে আসুন বিরূপাক্ষ মন্দিরে। বিরূপাক্ষ মহাদেব বা শিব ঠাকুরের এক নাম।  Hampi এর একমাত্র এই মন্দিরে আজও নিয়মিত পূজা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে এখানে পূজা দিতে পারেন। সুলতানরা বিজয়নগর দখল এর পরে Hampi এর সকল মন্দির কে কেন কিছু করেনি সেটা এক বিশ্বয়। অনেকে মনে করে এই মন্দির বিজয়নগর এর রাজারা তৈরি করেনি বলে তারা এটিকে আক্রমণ করেনি আবার অনেকে মনে করে এই মন্দিরে বিজয়নগর এর রাজার প্রতীক ছিল যাতে একটি শুকরের ছবি থাকায় তারা এটাকে হারাম মনে করে এর ভেতরে প্রবেশ করেনি। কারণ যাই হোক, এই মন্দির এখনো অক্ষত এবং এখানে দেবাদিদেব মহাদেব বিরূপাক্ষ রূপে প্রতিদিন পূজা পেয়ে থাকেন। এই মন্দিরের পাশেই আছে একটি বড় পুকুর আর তারই পাশে রয়েছে দূর্গমন্দির। এই মন্দিরের প্রধান তোরণ বা প্রবেশদ্বার খুবই বড় এবং অতীতে এর সামনে বাজার বসত। এই মন্দিরের ভেতরে রয়েছে একটি অন্ধকার ঘর, যেখানে প্রতিদিন সকালে এই প্রধান প্রবেশদ্বার এর উল্টো প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। তবে এর জন্য আপনাকে সকালে আসতে হবে। আর এখানে রয়েছে প্রায় ১০০ বছরের পুরনো হাতি লক্ষী, যে অনেকসময় দর্শনার্থীদের থেকে প্রসাদ গ্রহণ করে ও আশীর্বাদ করে। 
এই মন্দিরে প্রবেশের জন্য জুতো প্রতি দুই টাকা দিয়ে জুতো বাইরে জমা রেখে যেতে হবে। মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ কাছ থেকে দর্শনের জন্য মাথা পিছু ২৫ টাকার টিকিট নিতে হবে আর যেকোনো ক্যামেরার জন্য ৫০ টাকা দিয়ে ছবি ও ১৫০ টাকা দিয়ে ভিডিও নিতে পারবেন। মোবাইল ক্যামেরার জন্যও এই টিকিট লাগবে।
গাড়ি পার্কিং এর জন্য মন্দিরের সামনে ও পেছনে ব্যাবস্থা রয়েছে।


Sasivekalu Ganesha
বিরূপাক্ষ মন্দিরের সামনেই রয়েছে দুটি গণেশ মন্দির। ছোট গণেশ মন্দির যাকে সশিভিকালু গণেশ মন্দির নামে পরিচিত। এটি বিরূপাক্ষ মন্দিরের থেকে হেঁটে ৪-৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারবেন।


Kadalekalu Ganesha
বিরুপাক্ষ মন্দির আর ছোট গণেশ মন্দিরের মধ্যেই রয়েছে কাদেলেকাভু গণেশ বা বড় গণেশ মন্দির। এটি ১৩ ফুট বড় একটা পাথরের তৈরি গণেশ মূর্তি। এর পেটটা দেখতে ছোলার মত যার জন্য একে এমন নামে ডাকা হয়। 
এই জায়গায় অনেকগুলি খাবার দোকান আছে, মূলত ইডলি ধোসা জাতীয় খাবার পাবেন।

Lakshmi Narasimha Temple
লক্ষী নারাসিমা বা উগ্রু নরসিমা মন্দিরটি গণেশ মন্দির গুলি থেকে একটু দূরেই অবস্থিত। 



Badavilinga Temple (Shiva Linga)
উগ্র নরশিমা মূর্তির ডান পাশে রয়েছে প্রায় ৩-৪ ফুট বড় একটি শিব লিঙ্গ। অতি সুন্দর এই মূর্তিটি। 

Lotus Mahal
লোটাস মহল Hampi এর অপর আরেকটি গুরুত্তপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। এখানের জন্য আপনার টিকিটের প্রয়োজন হবে। অবশ্য এই একটি টিকিট দিয়ে বিজয়া ভিত্তারা মন্দির ও মিউজিয়াম দেখা যায়। টিকিট মূল্য মাত্র ৪০ টাকা। 

Queen's Bath
Old Palace (Gagan Mahal)
Elephant Stables / হাতিশালা 
Maha Navami Dibba
Stepped Tank (Black Stone Pond)
Pushkarani


Underground Temple-Prasanna Virupaksha Temple
Krishna Temple
Tungabhadra River


মোট খরচ
ভ্রমণের জন্য খরচ কত হতে পারে এটা সঠিক ভাবে বলা সম্ভব নয়।  কারণ প্রতিটি মানুষের পছন্দ ও চাহিদা আলাদা হয়।  তবে নূন্যতম কত খরচ হতে পারে তার একটা হিসাব দিলাম। 

দুটি জনের পরিবারের যেমন খরচ হতে পারে তার একটা হিসাব এখানে দিলাম। ধরে নিচ্ছি আপনি অটোতে ঘুরবেন ।


হাওড়া থেকে হসপেট ট্রেন ভাড়া স্লিপার ৭০০ টাকা ৩ টিয়ার এসি ১৮৬৫ টাকা। অর্থাৎ যাতায়াত ১৪০০-৩৮০০ টাকা। 
অটো ভাড়া ১৫০০-১৮০০ টাকা  দিন প্রতি।  দুই দিনে ৩০০০ - ৩৬০০ টাকা। বাইক ভাড়া নিলে হসপেট স্টেশন থেকেই পেয়ে যাবেন।  সেক্ষেত্রে স্কুটার দিন প্রতি ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে হবে।  তেলের খরচ  আপনার।
টিকিট মাত্র ৫০ টাকা। 
গোল নৌকা ভ্ৰমণ ৫০০-৭০০ টাকা মাথা পিছু 
হোটেল দুই দিন, দিন প্রতি 1500-2500 টাকা। দুই দিনে 3000-5000 টাকা।
গোটা দিনের খাবার ৫০০-৭০০ টাকা মাথা পিছু , দুই দিনে ১০০০-১৫০০ টাকা। 
অনান্য ৫০০ টাকা  পিছু। 

Wednesday, 31 August 2022

উটি ভ্রমন গাইড




দুই বা তিন দিনে কি ভাবে উটি ও তার পার্শ্ববর্তি জায়গা ঘুরে দেখবেন, কোথায় থাকবেন ও খরচ কত হতে পারে, তার সম্পূর্ন তথ্য পাবেন। এটি উটি ভ্রমন গাইড, ফলে সমস্ত জায়গা গুলির শুধুমাত্র মূল তথ্য টুকু তুলে ধরব। কোনো জায়গা সম্পর্কে বিশদে জানতে চাইলে সেই জায়গার vlog দেখে নিতে পারেন। লিংক description এ পেয়ে যাবেন।

উটির ভৌগলিক অবস্থান

উটি দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে নীলগিরি পর্বতমালায় অবস্থিত। উটিকে বলা হয় নীলগিরির রানী। উটি জায়গাটি এতই সুন্দর যে রানী শব্দ টাই সঠিক ভাবে মানায়। দক্ষিণ ভারতের এই শৈল শহর, ভারতবর্ষের তামিলনাড়ু রাজ্য অবস্থিত। ৭৩৫০ ফুট বা ২২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহর কিন্তু আমাদের দার্জিলিঙ শহরের চেয়েও বেশ কিছুটা উচুতে অবস্থিত। ফলে সারা বছর এখানে তাপমাত্রা থাকে বেশ ঠান্ডা। গরমে সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি ও শীতে ০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা হয়ে থাকে। এই ঠান্ডা হওয়া সত্বেও এখানে কিন্তু কখনোই বরফ পড়ে না। তবে বছরের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে। ফলে এখানে ঘুরতে এলে শীতের পোশাক অবশ্যই আনবেন। 

উটি শহরে কি ভাবে পৌঁছাবেন

কোয়াম্বাটর উটি র সব চেয়ে কাছের শহর। আবার অন্য দিকে মহীশূর থেকেও উটি জায়গা যায়। কোয়াম্বাটর এবং মহীশূর দুটি শহরই রেল পথ ও বিমান পথে কলকাতার সাথে যুক্ত। যদি ট্রেনে আসতে চান তবে বেশ কয়েকটি ট্রেন আসে দক্ষিণ ভারতের এই দুটি শহরে। আমি বলব আপনি যে কোনো এক দিক থেকে উটি এসে অপর দিক থেকে ফিরে যাবার প্ল্যান করুন। 
কোয়াম্বতোর থেকে উটি এর দূরত্ব 86 কিলোিটারের। কয়েম্বাটর থেকে থেকে টয় ট্রেন ধরে উটিতে আসতে পারেন। তবে সময় বাঁচাতে চাইলে গাড়ি বা বাসে করে প্রায় 2-2.5 ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারেন উটি তে। আবার মহীশূর থেকে উটি এর দুরত্ব প্রায় 125 কিলোিটার। মহীশূর থেকে প্রাইভেট গাড়ি অথবা বাস এ 3-4 ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারেন উটিতে। পথে পড়বে বান্দিপুর এবং মুদূমালাই টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট যা দেখে নিতে পারেন। মহীশূর থেকে উটি যাবার জন্য বন্দিপুর রিজার্ভ ফরেস্ট এর পরে দুটি রাস্তা আসে। বাস এর রাস্তাটি বেশ চওড়া এবং ভিউ এক কথায় অপূর্ব। তবে দূরত্ব প্রায় 30 কিলোিটার বেশি। এই রাস্তাটি ধরবার জন্য গুগল ম্যাপ এ মহীশুর ও উটির মাঝে টি আর বাজার বাস স্টপ দিয়ে দেবেন। তবে আমি এই রুটটি ধরবার জনই সাজেস্ট করব। রাস্তায় যাবার জন্য   আর এই রাস্তায় বেশ কয়েকটি পয়েন্টে আসবে যা দেখে নিতে পারেন। এর মধ্যে পিকনিক লেক বা টি আর বাজার এর  পাশের বিকালের দৃশ্য যেন শিল্পীর ক্যানভাসে আকা । এই পথেই পড়ে শুটিং পয়েন্ট এবং পাইন ফরেস্ট। ফলে বেশ এই point গুলি এই রাস্তায় যাত্রার সময়ই কভার হয়ে যাবে। অপর রাস্তাটি যায় মাসাইগুড়ি হয়ে, এই রাস্তায় দূরত্ব কম হলেও এখানে পড়ে ৩২ টি হেয়ার পিন বেন্ড যা ভীষণ খাড়াই ও উঁচু। 

কখন আসবেন

উটিতে বছরের যে কোনো সময় আসতে পারেন। তবে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর এখানে বেশ সুন্দর আবহাওয়া পাবেন। আর মে মাস এখানের পিক সিজিন। এই সময়ে দিনের বেলা খুবই আরামদায়ক আবহাওয়া থাকলেও রাত্রে হালকা শীতের পোশাকের প্রয়োজন হবে। মে মাসে এখানে অনেক ধরনের ফুলের শো হয়ে থাকে যা দেখতে অসংখ্য মানুষ এই সময় উটি তে ভিড় জমায়, ফলে এই সময় উটি থাকে ভীষণ ভাবে জমজমাট। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী বেশ ঠাণ্ডা থেকে, কখনো কখনো তাপমাত্রা প্রায় শূন্য ডিগ্রির কাছে চলে যায়। ফলে এই সময় আসলে ঠান্ডার ভারী জিনিস সঙ্গে আনবেন। 

কোথায় থাকবেন

উটি তে পুরো শহর জুড়ে রয়েছে বহু হোটেল। যদি একটু লোকালয়ে হোটেল নিতে চান তবে উটি শহরের বাজারের কাছে থাকতে পারেন। এই জায়গা থেকে উটি বাস স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশন কাছে হয়। এখানে মূল বাজার ও আপার বাজার এই দুই জায়গার আশেপাশে আছে বহু হোটেল। এছাড়াও উটি লেকের পাশে রয়েছে অনেক হোটেল। তবে আমি তামিলনাড়ু ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্ট এর হোটেল সাজেস্ট করব থাকবার জন্য। আমি নিজে তামিলনাড়ুর যে কোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে, থাকবার জন্য এই সরকারি এই হোটেলই আমার প্রথমে পছন্দ। উটি তে রয়েছে এদের দুটি হোটেল, অনলাইনে বুকিং করা যায়। এদের website ডেসক্রিপশন এ দিয়ে দিলাম। এই হোটেল এর রিভিউ পেয়ে যাবেন আমার উটি vlog এ। এছাড়া উটি পৌঁছে সরাসরি হোটেল বুক করতে পারেন অথবা যেকোনো অনলাইন পোর্টাল থেকেও বুকিং করতে পারেন। তবে মে মাসে এখানে এলে আমি সাজেস্ট করব হোটেল বুক করে আসবার জন্য।

উটি কি ভাবে ঘুরবেন

প্রথম দিন

উটি ঘুরবার জন্য অন্তত দুই দিনের প্রয়োজন হবে। প্রথম দিন উটি শহরের মধ্যে ও আশপাশে ঘুরে নিতে পারেন। এই ঘুরবার জন্য উটি taxi স্ট্যান্ড থেকে taxi বা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া নিয়ে নিন। আর যদি এক বা দুই জন থাকেন এবং কম পয়সায় ঘুরতে চান তবে পাবেন টুরিস্ট বাস যা সারা দিনে আপনায় উটি এর অনেক জায়গা ঘুরিয়ে দেখবে। এরা বিভিন্ন দিকের tour করিয়ে থাকে পছন্দ মত জায়গা ঘুরে নিতে পারেন। খরচ পড়বে মাথাপিছু ৩০০-৪০০ টাকা। আর প্রাইভেট গাড়ির ভাড়া সিজীন হিসাবে ওঠানামা করলেও ৪ সিট এর গাড়ি ২০০০-৩০০০ এবং ৭ সিট এর গাড়ি ৩০০০-৪০০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত। তবে মে মাসে এই ভাড়া বেশ বেশি থাকে। 
উটি শহরের মধ্যে ও আশেপাশের মূল জায়গা গুলি বোটানিক্যাল গার্ডেন, উটি লেক, রোজ গার্ডেন, dodabeta পিক, পাইন ফরেস্ট, হোম মেড চকলেট ফ্যাক্টরি, স্টোন হাউজ প্রভৃতি। প্রতিটি জায়গায় টিকিট কাটতে হবে, মাথা পিছু টিকিট এর দাম 30 থেকে 40 টাকার মধ্যে। ক্যামেরার জন্য আলাদা টিকিট নিতে হবে, স্টিল ক্যামেরার টিকিট 50 টাকা এবং ভিডিও ক্যামেরার জন্য 100-150 টাকার মধ্যে। মোবাইল এর ছবির জন্য কোনো ভাড়া প্রয়োজন নেই।
উটি লেকে বোটিং এর ব্যাবস্থা আছে। বিভিন্ন ধরনের বোট এ আলাদা আলাদা ভাড়া হয়ে থাকে। যা কমবেশি 200 থেকে 800 টাকার মধ্যে হয় প্রতি 30 মিনিটের জন্য। এসব ক্ষেত্রে সিকিউরিটি বাবদ সমান পরিমাণ টাকা জমা রাখা হয়, সময়ের মধ্যে ফিরে এলে জমা টাকা কাউন্টার থেকে ফেরত দেয়া হয়। উটি প্লাস্টিক বর্জিত একটা শহর ফলে এখানে প্লাস্টিকের জলের বোতল সব জায়গায় পাওয়া যায় না, সেক্ষেত্রে আপনার কাচের বোতলের জল কিনতে হতে পারে, যার দাম বেশ বেশি।

দ্বিতীয় দিন

পরের দিন সকালে চলে আসুন কুন্নর ঘুরবার উদ্দেশ্য। উটি থেকে কুনুর হেরিটেজ টয় ট্রেন যাত্রা অবশ্যই করবেন। এই যাত্রায় ট্রেনটি বেশ কয়েকটি টানেল এর ভেতর দিয়ে যায় এবং চার দিনের দৃশ্য অতি মনোরম। Irctc থেকে অনলাইনে আগেই টিকিট কিনে নিতে পারেন। প্রথম শ্রেণীর টিকিট পড়বে মাথা পিছু ৩৫০ টাকা ও দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট ১৫০ টাকা। সকালে ও বিকালে মোট ৪ টি ট্রেন উটি ও কুনুর এর মধ্যে যাতায়াত করে। চেষ্টা করবেন ৯:১৫ মিনিটের ট্রেনে উটি থেকে যাত্রা শুরু করতে যেটি কুনুর পৌঁছায় সকাল ১০:২০ মিনিটে। এরপর কুনুর স্টেশনের বাইরে গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন কুনুর ঘুরবার জন্য। ড্রাইভার এর সাথে কথা বলে নেবেন যাতে বিকালে আপনাদের হোটেলে পৌঁছে দেয়। কুনুর ভ্রমণে এখানের চা বাগানের দৃশ্য অসাধারণ। কুনুর এর মূল জায়গাগুলোর মধ্যে,sims পার্ক, ডলফিন নোস, lambs রক, স্লিপিং লেডি মাউন্টেন, চা চকলেট ও নীলগিরি তেল কারখানা ঘুরে নিতে পারেন। এবং তারসাথে কিছু মশলা, বিভিন্ন ধরনের চা ও নীলগিরি তেল কিনতে পারেন।
কুনুর এ লঞ্চ করে বিকালে উটি ফিরে আসতে পারেন। আর সন্ধায় ঘুরে নিন উটি র বাজার। রাতটা হোটেলে কাটিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়ুন পরের জায়গার উদ্দেশ্যে অথবা রাতেই বাস ধরে চলে যেতে পারেন পরের গন্তব্যে।

মোট খরচ

দুটি জনের পরিবারের যেমন খরচ হতে পারে তার একটা হিসাব এখানে দিলাম। ধরে নিচ্ছি আপনি প্রাইভেট গাড়িতে ঘুরবেন এবং মহীশূর বা কয়েম্বাতর পৌঁছানো ও উটি থেকে অন্য জায়গায় যাবার খরচ এখানে বাদ দিলাম।
হোটেল দুই দিন, দিন প্রতি 1500-2500 টাকা। দুই দিনে 3000-5000 টাকা।
মহীশূর থেকে উটি, সাইটসিন সহ 3500 টাকা।
মুদুমলাই সাফারি মাথা পিছু 350 টাকা, বাচ্চাদের বয়স হিসাবে। মোট 700 টাকা।
সাইট সিন প্রায় 10 টি, টিকিট মাথা পিছু প্রায় 300 টাকা। অর্থাৎ মোট 600 টাকা।
উটি এর ভেতরে অটো বা গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারেন, গাড়ি হলে 2000 টাকার মত পড়বে।
টয় ট্রেন এর মাথা পিছু টিকিট 150 টাকা দ্বিতীয় শ্রেণী এবং 350 টাকা প্রথম শ্রেণী। অর্থাৎ মোট 300-700 টাকা।
কুনুর সাইট সিন এর গাড়ি ভাড়া, উটিতে ড্রপ সহ প্রায় 2500 টাকা।
তিন দিনের খাবার এর জন্য দিন প্রতি দুই জন 1000-1300 টাকা, তিন দিনে 3000-4000 টাকা।
প্রাইভেট গাড়ির বদলে বাস নিলে খরচ অনেক টা কম হবে। সেক্ষেত্রে সাইট সিন এর জন্য টুরিস্ট বাসের টিকিট নিতে পারেন, সাধারণত গোটা দিনের খরচ মাথা পিছু 350-400 টাকার মধ্যে পড়ে। হোটেলের থেকে এই বুকিং করাযায় অথবা এই ছবিতে দেয়া নম্বরে ফোন করে নিতে পারেন।

ফুলের স্বর্গরাজ্য “ভার্সে” একদিন

  ফুলের স্বর্গরাজ্য  “ভার্সে” একদিন  —----------------------------- ---------  রবিবার , ১১ এপ্রিল ২০২১ করোনার লক-ডাউনে  দমবন্ধ হয়ে বেশ কয়ে...